1. admin@www.gsnnews24.com : admin : সাহিত্য বিভাগ
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০১:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইয়েমেনিরা ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র পেল, বড় ঝুঁকিতে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে দুদকে আবেদন নান্দাইলে দরিল্ল্যা গয়েশপুর আবদুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন ॥ ১৪ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন স্ত্রী-সন্তানসহ সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দুদকে তলব ঘূর্ণিঝড় রেমাল :৩০টি মৃত হরিণ উদ্ধার ইসরায়েলকে পাত্তা না দিয়ে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ইউরোপের তিন দেশের নান্দাইলে তালিকা জটিলতায় ধানের মৌসুম শেষ হলেও হার্ভেস্টার পাচ্ছেন না কৃষক নান্দাইলে পরিকল্পনা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন ॥ ঘূর্ণিঝড় রেমাল : ১৯ উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত

জাতীয়

শিরোনাম

নবুয়তের কাহিনি: আলী ইবনে আবু তালিব পুরুষদের মধ্যে প্রথম মুসলমান

  • Update Time : রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৩
  • ১৫০ Time View

আলী থেকে গেলেন রাসুলের (সা.) সঙ্গে নবুয়ত প্রাপ্তির কাল পর্যন্ত। আলী তাঁকে অনুসরণ করলেন, তাঁর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করলেন, তাঁর সত্য প্রচার করায় ব্রতী হলেন। আর জাফর থেকে গেলেন আল-আব্বাসের সঙ্গে। পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর কাছ থেকে চলে আসেন।

একজন হাদিস বর্ণনাকারী বলেছেন, নামাজের সময় হলেই রাসুল (সা.) চলে যেতেন মক্কার উপত্যকায়। সঙ্গে যেতেন আলী। আলী যে যেতেন তা তাঁর বাবা, চাচা কিংবা অন্য কোনো আত্মীয়স্বজন জানতেন না। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে নামাজ পড়তেন, ফিরতেন রাতে। এমনি করে চলল আল্লাহ্‌রই হুকুমে। একদিন তাঁরা সেখানে নামাজ পড়ছিলেন, এমন সময় আবু তালিব এসে হাজির। তিনি রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘ওটা কী রকম ধর্মকর্ম করছ তোমরা, বৎস?’

রাসুল (সা.) উত্তর দিলেন, ‘এটি আল্লাহ্‌র ধর্ম, চাচা, আল্লাহ্‌র ধর্ম, তাঁর ফেরেশতার ধর্ম, তাঁর নবীদের ধর্ম, আমাদের বাবা ইব্রাহিমের ধর্ম।’

 

ঠিক এমনি ভাষায় নয় হয়তো। হয়তো তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহ্‌ আমাকে মানুষের নবী করে পাঠিয়েছেন। আপনি আমার চাচা, সবচেয়ে শ্রদ্ধেয়জন, সবচেয়ে যোগ্য মানুষ। সত্যের পথে আনার জন্য, হেদায়ত করার জন্য আপনি সর্বোত্তম ব্যক্তি। আপনি ইচ্ছে করলেই আমার ডাকে সাড়া দিতে পারেন, আমাকে সাহায্য করতে পারেন।’

অথবা এমনি কিছু কথা।

তাঁর চাচা বললেন, ‘আমি আমার পিতা-পিতামহের ধর্ম ত্যাগ করতে পারি না। কিন্তু আমি যত দিন বেঁচে আছি, তত দিন কেউ তোমার কোনো অসুবিধা করতে পারবে না। প্রতিপালকের নামে শপথ করছি আমি।’

অনেকেই বলেন, তিনি নাকি আলীকে বলেছিলেন, ‘বাছা! এটা কী ধর্ম তোমার?’

আলী বলেছিলেন, আমি আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস করি, রাসুলে বিশ্বাস করি, আমি বিশ্বাস করি, তিনি যা এনেছেন তা সত্য, আমি তাঁর সঙ্গে আল্লাহ্‌র কাছে নামাজ পড়ি, তাঁকে অনুসরণ করি।’

 

অনেকের মতে, জবাবে তিনি নাকি বলেছিলেন, ‘ভালো ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে ও তোমাকে জড়াবে না। সুতরাং, ওর সঙ্গে লেগে থাকো।’

আলীর পর যিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তিনি হলেন রাসুলের (সা.) মুক্তি পাওয়া দাস জায়েদ। তারপর মুসলমান হলেন আবু ইবনে আবু কুহাফা। তাঁর অন্য নাম ছিল আতিক। পিতা উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তায়ম ইবনে মুররা ইবনে কাব ইবনে লুয়ায়ি ইবনে গালিব ইবনে ফিহর। মুসলমান হওয়ার পর তিনি করলেন কি—এর মধ্যে আর রাখঢাক রাখলেন না, প্রকাশ্যে তাঁর বিশ্বাসের কথা ঘোষণা করে বেড়াতে লাগলেন এবং যাকে পান তাকেই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের (সা.) ওপর ইমান আনার জন্য আহ্বান জানাতে লাগলেন। তিনি ছিলেন উচ্চতর অভিজাত সমাজের লোক, বড় সুন্দর ভদ্র ছিল তাঁদের পরিবারের সবার আচরণ। ছোট-বড় সবাই তাঁদের পছন্দ করত। কোরাইশদের বংশবৃত্তান্ত আর প্রাচীন ইতিহাস তিনি যেমন জানতেন, অন্য কেউ তেমন জানত না। আবার তাঁদের দোষ-গুণের সংবাদও ছিল তাঁর নখদর্পণে। যেমন বিরাট বণিক, তেমনি বিরাট ছিল তাঁর হৃদয়, দয়া আর মায়াতে ভর্তি। সুবিধা-অসুবিধা, আপদে-বিপদে সবাই ছুটে আসত তাঁর কাছে পরামর্শের জন্য, কারণ তাঁর যেমন ছিল পর্যাপ্ত জ্ঞান, তেমনি ছিল ব্যবসায়ে বিশাল অভিজ্ঞতা আর সর্বোপরি এমন সুন্দর মিষ্টি মেজাজ। যাদের তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর কাছে আসত যারা, সবাইকে তিনি আল্লাহ্‌র পথে, ইসলামের পথে আসার জন্য আহ্বান জানালেন।

অনুবাদ: শহীদ আখন্দ

প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)’ বই থেকে

Spread the love

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024
Theme Customized By BreakingNews