বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাসার বিছানায় স্ত্রীর গলাকাটা লাশ, ফ্যানে ঝুলছিল স্বামী বিএনপি ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দীতে গণসমাবেশের অনুমতি পেল গত পাঁচ বছরে মাংসের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি নান্দাইলের ধরগাঁও গ্রাম থেকে ৩টি গরু হারিয়ে যাবার অভিযোগ ॥ থানায় জিডি মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে সমম্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত সরাসরি রেমিট্যান্স আনার সুযোগ পেলো মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারি নান্দাইলের পল্লীতে বাড়িঘরে হামলা ॥ টাকা সহ গরু লুট মহিলা সহ আহত ৫ ॥ ১০ জনের নামে মামলা নান্দাইলের পল্লীতে বাড়িঘরে হামলা ॥ টাকা সহ গরু লুট মহিলা সহ আহত ৫ ॥ ১০ জনের নামে মামলা ৩৮৩ পদে কারা অধিদপ্তরে নিয়োগ, দিতে হবে ডোপ টেস্ট বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হবে : ওবায়দুল কাদের

কেরানীগঞ্জে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ২ ভাই নিহত

জিএসএন নিউজ ২৪ ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ১১৫ Time View

(পরিবারের দাবি ২৫ দিন আগে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের)

ঢাকার কেরানীগঞ্জে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে তাইজুল ইসলাম ওরফে তাজেল(৩৮) ও মো. সজিব(৩০) নামে দুই ভাই নিহত হয়েছেন।

তারা দু’জন সৎভাই। পিতা মৃত সলু মিয়া। তারা উভয়ই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন করেরগাও এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।

সোমবার রাত ৩ টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন ঝিলমিল আবাসন প্রকল্প এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় তারা। তবে তাদের পরিবারের দাবি গত জুলাই মাসের ২৩ তারিখে কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সজিবকে এবং ২৫ তারিখে আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাজেলকে।

এদিকে এঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর লাশ হস্তান্তর ও দাফনের পরও র‌্যাব মামলার এজাহারে নিহত দুই ভাইকে অজ্ঞাত পরিচয় দিয়েই মামলা দায়ের করে।

নিহত তাজেলের মা তাসলিমা বেগম বলেন, তাজেল আমার আপন ছেলে এবং সজিব আমার সতিনের ছেলে। তারা দুজনই মাদক সেবন করতো। তাদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলাও ছিলো। তবে ক্রসফায়ার দেয়ার মতো কোন অন্যায় তারা করেনি। আমার ছেলে তাজেলকে আব্দুল্লাহপুর থেকে গত ২৫ জুলাই র‌্যাব ধরে নিয়ে যায়। পরে এবিষয়টি আমরা পুলিশের সোর্স হৃদয়ের কাছ থেকে জানতে পারি।

এর ২ দিন আগে ২৩ জলাই কদমতলী থেকে র‌্যাব আমার সতিনের ছেলে সজিবকে আটক করে নিয়ে যায়। এ বিষয়টিও আমরা পুলিশের আরেক সোর্স নাবিলের মাধ্যমে জানতে পারি।

এরপর আমরা একাধিকবার র‌্যাবের অফিসে গেলেও আমার ছেলেদের কোন হদিস পাইনি। থানায় জিডি করতে গেলেও থানায় জিডি নেয়নি। কিন্তু ঘটনার দিন জানতে পারি আমার ছেলেদের ক্রসফায়ার দেয়া হয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে ছেলেদের লাশ নিয়ে আসি।

মঙ্গলবার রাত ১০টায় জানাজা শেষে তাদের লাশ রসুলপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি আরো বলেন, আমার ছেলেরা নেশা করতে পারে তবে তাদেরকে ক্রসফায়ার করতে হবে এমন কোন অপরাধ তিনি করেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, র‌্যাব-১০ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি (সিপিসি-২) স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি, সরকারি কাজে বাধা ও অস্ত্র আইনে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলার নাম্বার ৫৪/২১, ৫৫/২১ ও ৫৬/২১। মামলা তিনটি যথাক্রমে ১৮ আগষ্ট রাত ১২ টা ৩৫ মিনিট, ১২ টা ৪৫ মিনিট ও ১২ টা ৫৫ মিনিটে দায়ের করা হয়। এসব মামলায় ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে এজাহার দেয়া হয়। যাদের মধ্যে দুজন বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। এদিকে রাত ১১ টার মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুইজনের লাশ দাফন করেছে তাদের পরিবার।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সাক্রাতুল ইসলাম বলেন, মামলার এজাহারে যেভাবে উল্লেখ আছে সেভাবেই মামলা নেয়া হয়েছে। মামলা তদন্ত স্বাপেক্ষে বাকি তথ্য পাওয়া যাবে।

র‌্যাব ১০ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি (সিপিসি-২) কোম্পানী কমান্ডার মেজর ওবায়দুর রহমান বন্দুকযুদ্ধে কথা নিশ্চিত করে বলেন, ৭/৮ জনের একটি ডাকাতদল ঐ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আমাদের একটি অভিযানিক দল ঐ এলাকায় টহলে গেলে ডাকাতদল আমাদের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে গুলি করে। পরে আত্বরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ডাকাতরা পালিয়ে গেলে দুই ডাকাতকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে।

ঘটনাস্থল থেকে ২টি ৭.৬৫ বিদেশী বিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ২ রাউন্ড গুলি, ১২ বোরের ১৩টি শর্টগানের কার্তুজের খোসা, ৭.৬৫ পিস্তলের কয়েক রাউন্ড গুলির খোসা, একটি রামদা, একটি চাইনিজ কুড়াল, ছোড়া ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়।

নিহতদের আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চোর ডাকাত কখনো নিজের বাড়িতে চুরি ডাকাতি করে না। বাড়ির লোক তাদের সম্পর্কে সর্ব্বোচ্চ ভালোটাই বলবে। ভূক্তভোগীদের কাছে খোঁজ নিলে তাদের সম্পর্কে জানতে পারবেন। আত্বীয় স্বজন এখন অনেক কথা বলবে। তাদেরকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো এবং পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য ভিত্তিহীন।তাদের নামে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদকসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পারি এরা পারিবারিকভাবেই এসব কাজে নিয়োজিত। তাদের ৫ ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই আগেই মারা গেছে। বাকি ৪ ভাই এসব কাজ করে।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love
  •  
  •  
  •  

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-gsnnews