বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাসার বিছানায় স্ত্রীর গলাকাটা লাশ, ফ্যানে ঝুলছিল স্বামী বিএনপি ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দীতে গণসমাবেশের অনুমতি পেল গত পাঁচ বছরে মাংসের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি নান্দাইলের ধরগাঁও গ্রাম থেকে ৩টি গরু হারিয়ে যাবার অভিযোগ ॥ থানায় জিডি মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে সমম্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত সরাসরি রেমিট্যান্স আনার সুযোগ পেলো মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারি নান্দাইলের পল্লীতে বাড়িঘরে হামলা ॥ টাকা সহ গরু লুট মহিলা সহ আহত ৫ ॥ ১০ জনের নামে মামলা নান্দাইলের পল্লীতে বাড়িঘরে হামলা ॥ টাকা সহ গরু লুট মহিলা সহ আহত ৫ ॥ ১০ জনের নামে মামলা ৩৮৩ পদে কারা অধিদপ্তরে নিয়োগ, দিতে হবে ডোপ টেস্ট বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হবে : ওবায়দুল কাদের

কুড়িগ্রামে কবুতর পালনে সাবলম্বী নুরুজ্জামান

জিএসএন নিউজ২৪ ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১
  • ১৩৭ Time View

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের ফরিদ আলীর ছেলে নুরুজ্জামান মিয়া (৩৯)। সে যেন এক রুপ কথার গল্পের মতো, দিনমজুর ফরিদ আলীর পাঁচ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বড় নুরুজ্জামান অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল পড়াশুনা শেষ করে সরকারি চাকরি করে দিনমজুর বাবার সংসারে অভাব ঘুচাবে।

কষ্টের মাঝে ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাশ করেন। মানুষের বাড়িতে বাচ্চাদের টিউশনি করে পয়সা জমিয়ে ১৯৯৭ সালে এইচএসসিও পাশ করেন। বৃদ্ধ দিনমজুর বাবার একার পক্ষে পরিবারের ছয়-সাত জন লোকের ভরনপোষণ জোগানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

দারুন অভাবে ইতি ঘটে নুরুজ্জামানের পড়াশুনা। জীবন যুদ্ধে থেমে থাকেননি তিনি। ছোট বেলায় পাখি পোষার শখ ছিল তার। টিউশনির কিছু পয়সা দিয়ে বাজার থেকে শখ করে দুই জোড়া কবুতর কিনে প্রতিপালন শুরু করেন। কবুতরের বাচ্চা বিক্রির টাকা জমিয়ে টিউশনির কিছু টাকাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে বিভিন্ন প্রজাতির, দশ জোড়া কবুতরে পরিনত করে অভাবি সংসারকে স্বাবলম্বী করতে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন।

দশজোড়া কবুতরে এখন ষাট জোড়া কবুতরে পরিনত হয়েছে। এই কবুতর প্রতিপালন করে অভাবি পরিবারে ফিরিয়ে এনেছে স্বচ্ছলতা। কাঠ বাঁশের তৈরি চারকোনা করে লম্বা-লম্বিভাবে ঘড়ের বেড়ার সাথে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘরের চালের আর পর্যন্ত উপর নিচ শাড়িবদ্ধ ভাবে রেক তৈরি করে পালন করছেন কবুতর।

সেই কবুতর রাখার ঘড় গুলো সারিবদ্ধ হওয়ায় বাড়ির সৌন্দর্য এক প্রকার ও বটে। গ্রামীণ ভাষায় বলা হয়ে থাকে কবুতর নাকি সুখের পায়রা। কবুতর প্রেমি সুরুজ্জামান হাতে খাদ্য নিয়ে কবুতর গুলির সামনে হাজির হওয়া মাত্রই কি এক অবাক করা দৃশ্যে। সবগুলু কবুতর আহারের জন্য তার হাতে, শরীরে, মাথায় উঠে বসে, আহারের ইঙ্গিত করে।

এসময় মাটিতে ছড়িয়ে, ছিটিয়ে খাদ্য দেয়া মাত্রই ঝাঁকে ঝাঁকে নানান রং বেরঙের কবুতর একসঙ্গে আহার করে তখন মনেহয় প্রকৃতির সৌন্দর্যকে মাতিয়ে তুলছে। কবুতর পালন একপ্রকার সৌখিনতা বলা চলে। বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর প্রতিপালন করে অনেকটা লাভজনক এখন সুরুজ্জামান মিয়া। অভাবের দিন কিছুটা লাঘোব হচ্ছে।

সুরুজ্জামান মিয়া জানান, দশ প্রজাতির কবুতর রয়েছে আমার কাছে যেমন, দেশি, বাগদাদি হোমরা, কালো সিরাজি, গিরিবাজ, ম্যাগপাই ,লাখা, কাবুজি চিনা ইত্যাদি।

কবুতরের মাংস অনেকের কাছে সুস্বাদু ও বটে। এক একটি জাতের কবুতরের মুল্য এক একরকমের। যেমন, একজোড়া কবুতরের মুল্য একহাজার দুই হাজার পাঁচশত হইতে পাঁচহাজার পর্যন্ত বিক্রি হয়। এটি সুন্দর লাভজনক ব্যবসা।

তবে বড় একটা ব্যায় হয় কবুতরের খাবার যোগান দিতে ধান চাউল গম ভুট্টা সরিষা চাউলের খুদি ফীড ইত্যাদি। সবমিলিয়ে প্রায় পাঁচ কেজি খাবারের প্রয়োজন হয়, দৈনন্দিন এর ব্যয় প্রায় পাঁচশত টাকা।

এছাড়াও ছোট বাচ্চা গুলোকে খাওয়াতে বাজার থেকে ফীড ক্রয় করতে হয়। তিনি,আরোও জানান একটি কবুতরের ডিম দেয়া পর্যন্ত সময় লাগে পাঁচ থেকে প্রায় ছয় মাস, কিন্তু বাচ্চা বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠে প্রায় তিন-চার মাসের মধ্যে।

তার ইচ্ছা, আরো বড়সরো ভাবে খামারে পরিনত করার। তিনি মনে করেন, এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। তবে কবুতর পালনে রোগ বালাই ও আছে। এ ব্যাপারে কবুতর প্রতিপালনে উৎসাহ দিতে তিনি প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা একান্ত ভাবে কাম্য বলে মনে করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love
  •  
  •  
  •  

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-gsnnews