সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নান্দাইল পৌর নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান খান খোকন নান্দাইল প্রেসক্লাবে সচেতনতামূলক মাক্স ক্যাম্পেইন নান্দাইলে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় নান্দাইলে সচেতনতামূলক মাক্স ক্যাম্পেইন প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের মামলায় তরুণ গ্রেপ্তার শিশুকে বোতলে দুধ খাওয়ালে যেসব বিপদ হতে পারে স্বরূপকাঠিতে ট্রাভেলেটস অফ বাংলাদেশ-ভ্রমনকন্যার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বৃক্ষ রোপন নওগাঁ জেলায় চলতি রবি/২০২০-২০২১ মৌসুমে১ লাখ ৬৮ হাজার ৯শ ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্রা ঃ চালের আকারে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭ লক্ষ ৬৮ হাজার ৯শ মেট্রিক টন চরফ্যাসন সরকারি কলেজ থেকে মনির আহমেদ শুভ্রকে বিদায় সংবর্ধনা সমাজ সেবক হাজী সিদ্দিকুর রহমানের ইন্তেকাল

মর্গে যেভাবে ধরা পড়ে মৃত নারীদের ধর্ষণকারী মুন্না

জিএসএন নিউজ ২৪ ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০
  • ১১৮ Time View

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণের জঘন্যতম অপরাধের অভিযোগ উঠেছে মুন্না ভগত (২০) নামে এক ডোম সহকারীর বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে মুন্নার কুকীর্তির নাটকীয় সব ঘটনা।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ডোম জতন কুমার লালের ভাগিনা মুন্না ভগত। তিনি মামার সঙ্গেই ওই হাসপাতাল মর্গে সহযোগী হিসেবে কাজ করত। দুই-তিন বছর ধরে মুন্না মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিল। এ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বৃহস্পতিবার তাকে আটক করে সিআইডি। মুন্নাকে ধরতে বিশেষ কৌশল নিতে হয় সিআইডিকে।

মুন্নাকে ধরতে সিআইডির অভিনয়

অনুসন্ধানে নেমে সিআইডি জানতে পারে, সোহরাওয়র্দী হাসপাতালের মর্গের মূল ডোম রজত কুমার। তাকে সহায়তা করে আরও ৫/৬ জন।  তার মধ্যে রজতের ভাগ্নে মুন্না ভগত রাতে মর্গের পাশেই একটি কক্ষে থাকে। মুন্নাকেই সন্দেহ হয় সিআইডির। গুমের শিকার হওয়া এক যুবকের স্বজন সেজে মুন্নার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন সিআইডির দুই কর্মকর্তা। তাদের একজন জানান, বেশ কয়েকদিন লাগাতার তারা মুন্নাকে ফলো করতে থাকেন। রাতে মুন্নাই থাকে এটি নিশ্চিত হতে তারা রাত ১টা বা ২টায়ও মর্গে গিয়েছেন। ছবি দেখিয়ে জানতে চেয়েছেন এই চেহারার কোনো লাশ মর্গে এসেছে কিনা। সম্পর্ক গাঢ় হলে, কৌশলে মুন্নার পান করা সিগারেটের ফিল্টার সংগ্রহ করেন তারা। ফিল্টার থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ’র সাথে মিলে যায় ওই পাঁচ কিশোরীর দেহে পাওয়া ডিএনএ’র।

এর আগে ১০ নভেম্বর সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের বিশ্লেষকরা নড়েচড়ে বসেন। ‘কোডেক্স’ নামে যে সফটঅয়্যারে ডাটা বিশ্লেষণ করা হয় সেটি সংকেত দেয় যে ৫টি মৃতদেহে এক ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। পাঁচ ভিক্টিমই কিশোরী। তাদের বয়স যথাক্রমে- ১১, ১৩, ১৪, ১৬ এবং ১৭ বছর। এগুলোই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা। ৫টি আত্মহত্যার ৪টি মিরপুর এবং ১টি ঘটেছে মোহাম্মদপুর এলাকায়। ২ টি ঘটেছে ২০১৯ সালের মার্চ ও অক্টোবর মাসে। বাকি তিনটির একটি এ বছরের মার্চ ও ২টি আগস্ট মাসে ঘটেছে। সময়, এলাকা, বয়স ও লিঙ্গ একই ধরনের হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সিআইডির ধারণা হয় ভিক্টিমরা কোনো সিরিয়াল কিলারের শিকার।

২০১৫ সালে হাইকোর্ট এক আদিবাসী নারীর অপমৃত্যু মামলার রায়ে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দেন। তাতে বলা হয়, কোনো নারীর অপমৃত্যু হলে, তাদের যৌনাঙ্গ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে হবে। দেখতে হবে অপমৃত্যুর আগে কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিনা। তারপর থেকে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব আদালতের নির্দেশ মেনে আসছে।

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই ওই সিরিয়াল কিলার আরও হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা নিয়ে তদন্তে নামেন তারা। তারা মোহোম্মদপুর ও কাফরুল থানায় হওয়া ৫টি অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। তাতে তারা জানতে পারেন, ৫টি মামলার ভিক্টিমের সুরতহালে কোনো ধরনের জোরজবরদস্তির আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে প্রতিটি ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রত্যেক ভিক্টিম দরজা লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ৩টি ঘটনায় স্বজনদের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। সব মিলিয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা সিদ্ধান্তে আসেন তাদের প্রাথমিক ধারণা ভুল। এরপরই ওই অভিনয়ের আশ্রয় নেয় সিআইডি।

Total Page Visits: 127 - Today Page Visits: 2

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-gsnnews