শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৮ নং সিংরইল ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড এর মেম্বার প্রদপ্রাথী হিসাবে নির্বাচন করতে চান মোঃ মাসুদ রানা হাজী সেলিম ও ছেলে ইরফান সেলিমের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক সিজন-৮ মার্সেল ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে অসংখ্য পণ্য ও ক্যাশ ভাউচার উপহার বিশ্বনবীকে অবমাননার প্রতিবাদে ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক জাকির নায়েকের পঞ্চগড়ে রং নম্বরে পরিচয়, বিয়ের কথা বলে মাইক্রোবাসে গৃহবধূকে রাতভর ধর্ষণ মানবেতর জীবনযাপন : ‘এ জীবন থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো’ হাতিয়ায় ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন প্রসূতি রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই করোনাঃশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার বঙ্গবাজারে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন

ধর্ষনে উত্তাল দেশ:ষড়যন্ত্রকারীরা আবারো সক্রিয়:প্রতিরোধের উপায় কি?

লেখক সাংবাদিক মেহেদী হাসান মিলন
  • Update Time : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪২ Time View
বর্তমান সময়ে সব আলোচনা, হতাশা,দু:শ্চিন্তা ছাড়িয়ে একটি বিষয় সব চাইতে সামনে চলে এসেছে। আর তা হলো ধর্ষন।বাংলাদেশে করোনা,রিফাত হত্যাকান্ডের বিচার, পেঁয়াজের উদ্ধমূখী দাম,আলুতে আগুন, সব আলোচনা সমালোচনাকে পিছনে ফেলে একটিই আলোচনা আর তা হলো ধর্ষন।সম্প্রতিকালে ধর্ষনের ঘটনা যেন বেড়েই চলেছে।প্রশাসনও তৎপর ধর্ষকদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সাজা দিতে।সরকার বাহাদুরও ইতিমধ্য ধর্ষনের সর্ব্বোচ সাজা মৃত্যুদন্ড করেছেন।
ইতিমধ্য ধর্ষনের একটি মামলায় এ সাজা দেওয়া হয়েছে।বর্তমান সময়ে দেশে যখন ধর্ষন মহামারী আকার ধারন করতে শুরু করেছে। দেশীয় মিডিয়া গুলোও যখন এ ধরনের প্রতিটি ঘটনা ফ্রন্ট লাইনে ছেপে গুরুত্বপূর্ন ভাবে তা প্রকাশ করছেন।প্রতিদিনের একের পর এক ধর্ষনের খবর শুনে সাধারন মানুষ, সুশীল সমাজের কাছে ধর্ষনের বিষয়টি নিয়ে আতংকিত হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।আর মিডিয়ার কারনে ভুক্তভোগীরা অনেকটা ন্যায় বিচার পাচ্ছেন। কোন ঘটনা কেউ ধামাচাপা দিতে পারছেনা।ক্যাসিনো থেকে শুরু করে অনেক ঘটনাই বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেল,পত্রিকায় আসার কারনে সকলে শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন।
সরকার ও প্রশাসন ও নড়েচড়ে বসছেন।নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জল রাখতে সকলে জোর চেষ্টা করছেন।আর এ সুযোগে জল ঘোলা করার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে একটি পক্ষ ছাত্র সমাজ,সূধী সমাজের আন্দোলন, মানববন্ধনে প্রবেশ করে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।সরকার বিরোধী নানান স্লোগান,ব্যানার,ফেস্টুনে করে তা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।সরকার কিন্তু ক্যাসিনো থেকে শুরু করে, বালিশ কান্ড,হাসপাতালের অনিয়ম দূর্নিতি,করোনা টেস্ট কেলেংকারী,মাস্ক কেলেংকারী কোনটারই কিন্তু ছাড় দেননি।প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়েছেন কঠোর থেকে কঠোরতর পদক্ষেপ। অনেকের সর্ব্বোচ সাজাও নিশ্চিত করেছেন।কিন্তু ছাড় দেননি কোনভাবে।দলমত না দেখে দেখেছেন অপরাধ।
তেমনি ধর্ষনের বেলাতেও সরকার কঠোর অবস্থানে।প্রশাসনও কঠোর অবস্থানে। তারপরও ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নিজ স্বার্থ হাসিল করতে ধর্ষনের বিরুদ্ধে কথা না বলে সরকার বিরোধী বক্তব্য প্রদান করে নিজেদের ঝাল মেটাচ্ছেন।প্রতিটি ক্ষেত্রে এখন একটিই আলোচনা ধর্ষনের প্রতিকার কি?কিভাবে সম্ভব ধর্ষন বন্ধ করা।আমার ব্যাক্তিগত অভিমত নিয়ে একটু আলোচনা করতে চাই। আপনারা জানেন বিগত বেশ কয়েক বছর পূর্বে দেশে চুরি,ডাকাতি নিয়ে দেশের মানুষ ছিল আতংকিত।স্যালো মেশিনের হ্যাড থেকে শুরু করে কৃষকের গরু চুরি ছিল নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার।রাত হলেই সাধারন মানুষ ঘরে ঘুমাতে পারতো না ডাকাতের ভয়ে।আ:লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর চুরি, ডাকাতি অনেকাংশে কমে এসেছে।আজকাল মানুষ অন্তত শান্তিতে ঘুমাই চোর ডাকাতের ভয় থেকে।তবে সাম্প্রতিকালে প্রকাশ্য বা রাতের আধারে খুনের মতও ঘটনা ঘটছে।যা অস্বীকার করার উপায় নেই।দেশকে চুরি,ডাকাত ও সন্ত্রাস মুক্ত করতে দেশের বিভিন্ন প্রশাসন সহ গোয়েন্দা সংস্থাদের কাছে রয়েছে এদের তালিকা।তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া, নজরদারী করা,হুশিয়ারী করার কারনে দেশে আজ চুরি,ডাকাতির ঘটনা অনেক কম।সরকার যখন দেশকে মাদকমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।
তখনও কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থা সহ প্রশাসনের সকলের কাছে মাদকসেবী,মাদক ব্যাবসায়ী, গডফাদারদের তালিকা রয়েছে।তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার কারনে মাদকের ভয়াল থাবাও কিন্তু কমে আসছে।মাদককারবারীরা ভয়ে অনেকে কারবার ছেড়ে দিচ্ছেন।মাদকসেবীরাও সেবন করা বন্ধ করছেন। ঠিক তেমনি ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি গ্রামে ধর্ষনের চেষ্টাকারী,যাদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ধর্ষনের অভিযোগ ছিল,মামলা ছিল বা বর্তমানে আছে তাদের তালিকা করতে হবে।তাদের ডেকে কঠোরভাবে হুশিয়ারী করতে হবে। তবে অবশ্যই কমবে ধর্ষনের ঘটনা।কারন যে মাদকসেবী সে মাদকের নেশা করার সুযোগ পেলেই করবে,যার চুরি করার অভ্যাস সে সুযোগ পেলেই চুরি করবে,যে ডাকাতি করে সে সুযোগ পেলেই ডাকাতি করবে, ক্ষ্যাপা কুকুর যে দুইজনকে কামড়ে আর কাউকে কামড়াবেনা তার গ্যারান্টি নেই। তবে আরেকজনকে কামড়ানোর আগে ক্ষতবিক্ষত করার আগে তাকে বেড়ি দিলে সে আর কামড়ানোর সুযোগ পাবেনা।ঠিক তেমনি কোন ধর্ষনের চেষ্টাকারী ব্যাক্তি আরেকবার ধর্ষন চেষ্টা করার আগে ধর্ষন করার আগে তাকে হুশিয়ারী করলে তার নাম প্রশাসনের খাতায় থাকলে সে নিশ্চয় ভয় পাবে এমন কর্মকান্ড করতে।তেমনি সে এলাকায় একটি ধর্ষনের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগী ধর্ষনকারীকে চিনতে না পারলেও সেই এলাকার এ ধরনের ব্যাক্তিদের নামের তালিকা থাকার কারনে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হবে।তেমনিভাবে একটি ধর্ষন চেষ্টা বা ধর্ষনের ঘটনায় দ্রুত আসামীকে আটক করতে হবে। সেই সাথে এমন ঘটনা শোনার সাথে সাথে মামলা হবার আগেও প্রয়োজনে আসামীকে আটক করে রাখতে হবে।
তবে কমবে ধর্ষন।আমি নিজে দেখেছি থানায় একটি ধর্ষন চেষ্টার মামলা হলো। আসামী পলাতক। পুলিশও তাকে ধরতে গড়িমসি শুরু করে দিল। পরে সে প্রায় ১ মাস পালিয়ে থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংসা করে পার পেলো।অনেক সময় দেখা যায় রাতে আঁধারে কাউকে ধর্ষনের চেষ্টা করলো কেউ। অভিযোগ বা মামলা হলো। পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে ভুক্তভোগী সহ বিভিন্ন স্বাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলো।ধর্ষনের চেষ্টাকারীকে দেখেছেন কিনা,কি পড়েছিল,মুখ দেখেছিলেন কিনা,কখন এসেছিল নানান রকমের জিজ্ঞাসা।আমার মনে হয় এরকম ঘটনায় অভিযুক্তকে ধরে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সে নিজে নিজেই সব দোষ স্বীকার করবে। এতে করে ভুক্তভোগীর ন্যায় বিচার পেতে সুবিধা হবে।আমার প্রশ্ন হলো কোন মেয়ে কখন এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হবেন তিনি তো আর সেটা জানেন না। যেজন্য তিনি মজবুত স্বাক্ষী যোগার করে রাখবেন।আর ধর্ষন না হবার কারনে তেমন কোন আলামত ও হয়তো থাকেনা ভুক্তভোগীর নারীর। তবে কি তিনি ইজ্জত রক্ষা করতে পেরেছেন বলে ন্যায়বিচার পাবেন না।নাকি ধর্ষনের চেষ্টাকারী ব্যার্থ না হয়ে ধর্ষন করতে পারলে ভুক্তভোগী যিনি তিনি ন্যায় বিচার পেতেন।ধর্ষনের চেষ্টাকারীও একজন ধর্ষকের চাইতে কম অপরাধ করেনা।হয়তো ভুক্তভোগী যেকোন ভাবে প্রানপন চেষ্টা করে নিজেকে বাঁচান। সেক্ষেত্রে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া ঠিক
সেক্ষেত্রে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া ঠিক না এসব অপরাধীদের।একজন ধর্ষনের চেষ্টাকারী সমাজে বুক ফুলে ঘুরে বেড়ায়। আর যার সাথে এমন ঘটনা ঘটার চেষ্টা হয় সেই মেয়েটা সমাজে লজ্জিত হয়। একবারও কেউ সেই অপরাধীর শাস্তির কথা বলেনা।বরং তাকে বাঁচাতে একটি পক্ষ মরিয়া হয়।আপনার মেয়ে আপনার স্ত্রী আপনার ঘরে শুয়ে আছে আমি যদি আপনার ঘরে অনাধিকার প্রবেশ করে জোর পূর্বক ধর্ষন চেষ্টার ঘটনা ঘটাতে যায় তবে দোষটা কার। আপনার স্ত্রী বা আপনার মেয়ের না আমার?কিন্তু সমাজের মানুষ সেই আপনার স্ত্রী, মেয়েকে নিয়ে কুৎসা রটাবে। বাজে মন্তব্য করবে।নানান রকমের কথা বলবে। আপনার ঘরে তালা মারা আছে কিনা,ঘরের দরজা খোলা ছিল কেন। কিন্তু কেউ একবারও বলবে না কেন ধর্ষনের চেষ্টাকারী আপনার বাড়ি প্রবেশ করলো।আপনার মেয়ে স্ত্রী নিজ বাড়িতে যখন থাকে তখন হয়তো ওড়না নেইনা।দেখতে খুব সুন্দরী,সেজেগুজে থাকে । তাতে আমার কি তাই বলে কি আমি আপনার বাড়ি ঢুকে জোর পূর্বক ধর্ষন করতে যাবো।
একটি কথায় বলবো ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ,ধর্ষনের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে আছে তাদের তালিকা তৈরী করুন।কঠোর হুশিয়ারী করুন।নজরদারী করুন দেখুন ধর্ষন কমবে।যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ সেই সব অপরাধীদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করুন দেখুন তারা ইতিপূর্বে আরো এমন অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে।সেগুলো সামনে আসেনি তাই দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়েছে।খোঁজ নিন দেখুন হয়তো তাদের নামে ইতিপূূর্বেও ধর্ষনের মামলা রয়েছে।তখন কঠোর শাস্তি না হওয়ায় আবারো এমন ঘটনা ঘটাবার সাহস দেখিয়েছি।সব শেষ একটি কথায় বলবো প্রশাসন সব পারে।প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে ধর্ষনের বিরুদ্ধে। সভা সেমিনার সহ নানান কাজ করছে প্রশাসন।বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ভরসা আছে সকলের। তারা চেষ্টা করলেই পারবেন ধর্ষনের এ থাবা কমাতে।সেই সাথে প্রতিটি ধর্ষনের ঘটনায় ধর্ষকদের সব্বোর্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড চেয়ে আমার লেখা শেষ করছি।
Total Page Visits: 55 - Today Page Visits: 1

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-gsnnews