শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যেসব খাবার কাঁচা খাবেন না করোনা গ্লোব বায়োটেকের টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আগ্রহী নেপাল করোনা : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি ছাড়ের নির্দেশনা আসছে কেন্দুয়ায় দুটি চোরাই গরু সহ ২জনকে আটক করল পুলিশ সমুদ্র বন্দর গুলোকে : ৪ নম্বর হুশিয়ারি সংকেত বিশ্বের সবচেয়ে মোটা ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হলো ক্রেনে গোপালপুরে গণধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর সাক্ষাৎ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টিতে শেখ হাসিনা নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন – শ ম রেজাউল করিম মুজিববর্ষ উপলক্ষে চরমোনাই ভূমি অফিসের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ নান্দাইলে নিরাপদ সড়ক চাই বর্নাঢ্য র‌্যালীর উদ্ধোধন করেন এমপি তুহিন

গণধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী : কিশোরগঞ্জ পুলিশের অভিযানে আটক মূল আসামি বৃদ্ধ মনসুর

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৩৫ Time View
প্রতীক ছবি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে গণধর্ষণের শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী এখন অন্তঃসত্ত্বা। উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নে ৭ম শ্রেণির ওই ছাত্রী (১৩) গণধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মুনছুর মিয়াকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অষ্টগ্রাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।

মুনছুর মিয়া উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের মসজিদজাম সোনারু হাটি গ্রামের মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে। গত ২৫ জুন স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে মুনছুর ও শেখ নজরুল ইসলামের (৪৫) বিরুদ্ধে অষ্টগ্রাম থানায় মামলা করেন।

মামলার আগে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ছাত্রীর পরিবারের দারিদ্রতা ও অসহায়ত্বের সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ধর্ষণের বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা করে। মামলার পর দুই অভিযুক্তই আত্মগোপনে চলে যায়।

প্রায় সাড়ে তিন মাস পর দুই আসামির মধ্যে প্রধান আসামি মুনছুর গ্রেফতার হলেও শেখ নজরুল ইসলাম এখনো অধরাই রয়ে গেছে। নজরুল একই ইউনিয়নের শেখের হাটি গ্রামের মৃত শেখ মঈন উদ্দিনের ছেলে।

অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, পরিবার ও মামলার তথ্য মতে, কিশোরী স্থানীয় অষ্টগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৬ জানুয়ারি রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে পাশের বাড়ির মুনছুর মিয়া ও শেখ নজরুল ইসলাম কিশোরীর ঘরে ঢুকে দড়ি দিয়ে মেয়েটিকে বেঁধে ফেলে। প্রথমে মুনছুর ও পরে নজরুল হত্যার হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

মেয়েটির চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী টের পেয়ে গেলে দুই ধর্ষক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গণধর্ষণের শিকার হয়ে এই ছাত্রী এখন প্রায় নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ছাত্রীর মা জানান, তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে সেই স্ত্রীর সাথে থাকেন। দারিদ্রতার কারণে তিনি মেয়েকে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করেন। জীবিকার তাগিদে মেয়েকে বাড়িতে রেখে তিনি ঢাকার গুলশান এলাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছেন। ছুটিতে মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসেন। মেয়েটি বাড়িতে একা থেকে স্কুলে লেখাপড়া করে। এ সুযোগে প্রতিবেশী মুনছুর তার সহযোগী নজরুলকে নিয়ে মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।

সুবিচারের আশায় তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। বিষয়টি মীমাংসা না করে বরং উল্টো ছাত্রী ও তার পরিবারের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে দুই ধর্ষকের পরিবার ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মামলার পর থেকে পুলিশ আসামিদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে। কিন্তু দুই আসামিই অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির হওয়ায় তারা কৌশলে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল।

অবশেষে মূল অভিযুক্ত মুনছুর মিয়ার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আমরা সরাইলে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করি। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অপর আসামি নজরুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Total Page Visits: 149 - Today Page Visits: 1

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-gsnnews