মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নান্দাইলে উপ নির্বাচনে মিল্টন ভূইঁয়া নির্বাচিত নান্দাইলে বসতবাড়ীতে হামলা ভাংচুর ॥ ১জন আহত উপ নিবার্চন চেয়ারম্যান পদে শেরপুর ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহন চলছে নান্দাইলে বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল ও অঙ্গ-সংগঠনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বেতাগীতে এক ঘণ্টার মেয়র শিফা! আদালতে অভিনেত্রী শমী কায়সারের বিরুদ্ধে পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন ১৫ নভেম্বর শিশু শেখ রাসেল মেধা ও মননের অপূর্ব সমাহার ছিল : শিক্ষিকা গীতালি দাশগুপ্তা পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করলেন সদ্য নির্বাচিত এমপি হেলাল শহীদ শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট চরফ্যাশনে ইকো ট্যারিজম উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত 

নারী ধর্ষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে

আহমদ রফিক
  • Update Time : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৬ Time View

নারী ধর্ষণ নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সম্পর্কে প্রতিবাদ ও লেখালেখিও কম হয়নি। কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, ঘটছে না। করোনা দুর্যোগ-দুর্ভোগে মানুষ যখন বেঁচে থাকার এক ধরনের জীবনসংগ্রামে ব্যস্ত, তখনো চলছে সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই দুর্বৃত্তপনা।

সমাজে কতটা যে পচন ধরেছে তার প্রমাণ দিনকয় আগে দৈনিক পত্রিকায় ছোট্ট এক টুকরো খবর—ষাট বছর বয়সী ধর্ষক বৃদ্ধ জামিনে খালাস পাওয়ার পর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে তার সুকীর্তির(?) জন্য। ধর্ষককে বরণ কিভাবে সম্ভব?

ধর্ষণ ঘটছে বয়স-নির্বিশেষে ও শ্রেণি-নির্বিশেষে। তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর যে সংবাদটি প্রায় সব দৈনিকেরই প্রথম পাতায় মোটা হরফে প্রকাশিত হয়েছে, তা শিউরে ওঠার মতো।

ভাবতে পারা যায় না, আমাদের যুব-তরুণসমাজের মানসিকতা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি দৈনিকে এ বিষয়ে শিরোনাম : ‘জ্বালিয়ে দেওয়া সেই ছাত্রাবাসে এবার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ক্ষত’।

এতে বলা হয়েছে : ‘সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণী (২০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। …অভিযুক্ত ধর্ষণকারী সবাই ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করলেও ধর্ষকদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’

ওই প্রতিবেদনে ২০১২ সালে এই কলেজে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ ও ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে : ‘তরুণী ধর্ষণের ঘটনাটি এমসি কলেজের ইতিহাসে আরেকটি ক্ষতের জন্ম দিল’ (কালের কণ্ঠ)। ঘটনা দুটি চরিত্রবিচারে ভিন্ন। কিন্তু এখন যা ঘটল তা তুলনাহীন।

বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রাবাসে বা শিক্ষায়তনে ছাত্র নামধারী কিছুসংখ্যক দুর্বৃত্তের কল্যাণে যেসব ঘটনা ঘটে চলেছে, কিছুতেই তার হিসাব মেলানো যাচ্ছে না প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষের অস্তিত্বের সঙ্গে, তাদের দায়িত্বশীলতার নিরিখে।

বর্তমান ঘটনায় লক্ষ করার বিষয়—কলেজ বন্ধ, ছাত্রাবাস খোলা রাখার তাৎপর্যটা কী? এ ঘটনা সম্পর্কে অন্য একটি দৈনিকে দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, শিরোনাম যদিও সাদামাটা : ‘তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে ধর্ষণ’। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘যেভাবে আসামিরা শনাক্ত’, সে সম্পর্কে কিছু তথ্য।

খোলা ছাত্রাবাসে উপস্থিত ছাত্রের সঙ্গে কিছুসংখ্যক বহিরাগতের আসা-যাওয়া ছিল। বুঝতে অসুবিধা হয় না, ওরা কারা? অভিযুক্তদের সম্পর্কে নাম প্রকাশ না করার শর্তের সূত্রে বলা হয়েছে, মূল অভিযুক্তরা এর আগেও নানা রকম অবৈধ-অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওরা মদ ও জুয়ার আসর বসাত। কেউ বাধা দেয়নি।

কলেজ কর্তৃপক্ষের এসব ঘটনা না জানার কথা নয়; কিন্তু তারা বোধগম্য কারণে এসব বিষয়ে নির্বিকার ছিল। এখন অবশ্য ভয়াবহ ঘটনাটির পর কলেজ কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু এসব কমিটির তদন্তের পরিণাম বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত ফলাফল দেয় না। আমরা অপেক্ষা করব এর পরিণাম দেখতে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সিলেট শহরে দিনভর বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ছাত্রসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ যোগ দিয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দিনকয় ধরে চলে, এরপর যথারীতি বন্ধ হয়ে যাবে। তারপর? ঘটনা কি আপন নিয়মে চলবে।

যেহেতু প্রকাশিত ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্তরা ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের সদস্য, আমরা তাই ওই দুর্বৃত্তের যথাযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি; করছি স্বামীর সামনে থেকে বলপূর্বক তাঁর তরুণী স্ত্রীকে ছিনিয়ে নেওয়ার বেপরোয়া মনোভাবের কারণে। তা-ও আবার রাস্তার ওপর।

দুই.

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কত দিকে হাত বাড়াবেন? ঘটনা তো একের পর এক ঘটেই চলেছে। করোনা উপলক্ষেও সমাজের একাংশে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তপনা নিয়ে অনেক লেখালেখি সত্ত্বেও সমাজে তার প্রতিফলন নেই। এই একই দিনের দৈনিকে অনুরূপ জঘন্য ঘটনার খবর : ‘মা-বাবাকে বেঁধে পাহাড়ি তরুণীকে ধর্ষণ, আটক ৭’।

এ ঘটনা অবশ্য পাহাড়ি এলাকা খাগড়াছড়িতে। রাত ২টায় বাড়ির সদর দরজা ভেঙে ৮-৯ জন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রীকে বেঁধে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। সেই সঙ্গে চলে লুটপাট। আমি এ প্রসঙ্গের জের টেনে দীর্ঘ আলোচনায় যাচ্ছি না। ঘটনা আরো ঘটেছে একই দিনে।

মূল বিষয়টি হলো, সমাজে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে নীতিনৈতিকতা, সুস্থ মূল্যবোধে এত ক্ষয়, এত পচন ধরেছে নানা দিক থেকে যে কী সাধারণ অবস্থায়, কী অসাধারণ অবস্থায় অপরাধমূলক ঘটনার বিরাম নেই। প্রতিদিনের দৈনিক পত্রিকাগুলোর পাতায় চোখ রাখলে নানা মাত্রিক অপরাধের কোনো না কোনো ঘটনা চোখে পড়বেই। তখন কাগজ পড়ার ইচ্ছা তিরোহিত হয়ে যায়।

কেউ যদি প্রশ্ন করেন, কী করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জবাবটা স্পষ্ট, তারা কিভাবে প্রতিটি অকুস্থল চিহ্নিত করতে পারে ধর্ষণের বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঠেকাতে। হয়তো তাদের সতর্ক তৎপরতা আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। যেমন ওই পাহাড়ি তরুণীর ঘটনার ক্ষেত্রে কাছেই ছিল আনসার ক্যাম্প।

কিন্তু এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ঘটনা বা অনুরূপ শিক্ষায়তনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ঘটনা তো প্রতিরোধযোগ্য—আইন-শৃঙ্খলা, নিয়ম-নীতি প্রতিষ্ঠায় কলেজ কর্তৃপক্ষ যথাযথ পূর্ব ব্যবস্থা গ্রহণে; এমনকি এ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের উদাসীনতার অভিযোগ উঠে আসতে পারে।

ছাত্র-অছাত্রদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ বন্ধ করা কি অসম্ভব? আমার তা মনে হয় না। আসলে এর পেছনে থাকে নানা ধরনের স্বার্থবুদ্ধি, ব্যক্তিগত ভালো-মন্দের বিষয়াদি। রাজনৈতিক সুবিধাবাদও বিবেচনার বাইরে থাকার কথা নয়।

তবে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো, সুস্থ সামাজিক শক্তি গঠিত হওয়া, যা যেকোনো প্রকার অন্যায়-অপরাধের বাধা বা প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। দ্বিতীয় ব্যবস্থা হলো, প্রতিটি অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যা অন্যদের সতর্ক হতে সাহায্য করবে। এদিকে আমাদের ঘাটতি রয়েছে।

দিনকয় আগে নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থাপত্র হিসেবে নাইজেরিয়ায় চরম শাস্তির কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে আরো কিছু ব্যবস্থা। নাইজেরীয়দের সব বিষয়ে উগ্রতার কথা আমরা জানি, সে বিষয়ে কিছু না বলাই ভালো। অন্যরা কী বলবেন জানি না।

তবে বাংলাদেশে সমাজের নানা খাতে নারীশিক্ষা, নারীর বিভিন্ন উচ্চ পদে আসীন হওয়ার মতো অগ্রগতি—এককথায় নারী উন্নয়নের অগ্রগতি সত্ত্বেও নারী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ কমছে না, এটা বড় দুর্ভাগ্যজনক। এটা বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাই প্রতিটি নারী ধর্ষণের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচার ও শাস্তি বিধান যেমনটি এর আগে বলা হয়েছে অত্যন্ত জরুরি। দরকার নতুন বিচারব্যবস্থায় নতুন আইন এবং দৃষ্টান্তমূলক চরম শাস্তি নিশ্চিত করা, তাতে যদি কিছুটা সুফল মেলে। সেই সঙ্গে দরকার এমন ব্যবস্থা, যাতে কোনো অজুহাতে সুবিধাবাদ প্রশ্রয় না পায়। সরকার ক্রমবর্ধমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে পৃথকভাবে নারী ধর্ষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়নে এগিয়ে আসবে কি? কারণ শিশু ও নারী নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল গঠনেও যখন কাজ হচ্ছে না, তখন চরম ব্যবস্থা, বিধি-বিধানের কথা ভাবতে হবে।

লেখক : কবি, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী

Total Page Visits: 55 - Today Page Visits: 1

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-gsnnews