মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

সকলকে সাইবার সচেতনতার আহব্বান: ময়মনসিংহ ডিআইজি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১০ মে, ২০২০
  • ৯ Time View

চলমান করোনা সংকটে সকলকে সাইবার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি  মো. হারুন অর রশিদ । কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাতকারে এমন আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ডিআইজি বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে সাইবার অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে অনেকে বাসায় বসে অনলাইনে অফিসের কাজ করছেন। অনেকে অনলাইনে শপিং করছেন, অনলাইনে বিভিন্ন সেবা নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করাটা সকলের জন্যই অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি জানান, বিশ্ব করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থা এখনও অনেক ভাল। এটি সম্ভব হয়েছে প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে এ দেশে কোভিড-১৯ মহামারি রূপ নিতে পারেনি। জানুয়ারি থেকেই ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরে আসা যাত্রীদেরকে থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে স্ক্যানিং করা হয়েছে এবং ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দিগ্ধদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশের কাজের মাত্রা এবং পরিধি দুই’ই বেড়েছে। একদিকে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, খাদ্য, ত্রাণ ও দুর্যোগ সংস্থার সাথে সমন্বয় করে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের কাজটি চলছে। অপরদিকে লকডাউন, ইতোমধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সনাক্ত করা এবং তাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকরণের দায়িত্বও পালন করতে হয়েছে। এছাড়া সার্বিক আইন শৃংখলা রক্ষায়ও পুলিশ অতীতের মতো কাজ করে যাচ্ছে।

রেঞ্জ ডিআইজি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস যেন সংক্রমিত না হয় এজন্য বিভিন্ন বিজ্ঞাপন এবং বক্তব্য মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধির সাথে সমন্বয় রেখে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন নির্দেশনা জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। তবে একটি বিষয় সম্পর্কে মানুষকে আরো সচেতন করা প্রয়োজন।’

ডিআইজি হারুন অর রশিদের মতে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে সাইবার অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সাইবার অপরাধ শাখার মতে, করোনা মহামারীতে ইন্টারনেট ক্রাইম চারগুন বেড়ে গেছে। যেখানে দৈনিক ইন্টারনেট ক্রাইম সংক্রান্তে অভিযোগের সংখ্যা ছিল কম বেশি ১ হাজার। এখন সেটা বেড়ে ৩-৪ গুণ হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দীর্ঘসময় মানুষকে বাসায় থাকতে হচ্ছে। অনেকে বাসায় বসে অনলাইনে অফিসের কাজ করছেন। অনেকে অন লাইনে শপিং করছেন, অনলাইনে বিভিন্ন সেবা নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে যারা অফিসের কাজ করছেন বা অন্য কোন জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যেন তাদের অফিস যন্ত্র (কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন) কোন ভাবেই কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত না হয়। এটা হতে পারে কয়েকভাবে। যেমন আপনি যখন কোন ই-মেইলে কোন ফাইল যুক্ত করছেন, ইন্টানেট থেকে কোন ফাইল বা ডকুমেন্ট ডাউনলোড করছেন অথবা ইতোমধ্যেই ভাইরাস দূষিত কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন।

তিনি বলেন, ‘ডিভাইসটি ভাইরাসে সংক্রমিত হলে ইন্টারনেট স্লো হতে পারে। এর মাধ্যমে হ্যাকার আপনার ডিভাইসটিতে প্রবেশ  করতে পারে, স্পাম মেইল পাঠিয়ে পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে। স্পাইওয়্যার আরেকটি ম্যালওয়্যার যা ডিভাইস ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতসারে তার কার্যক্রম মনিটর করে এবং ব্যবহারকারীর অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর তথ্যাদি যেমন-ক্রেডিট কার্ড নম্বর ইত্যাদি চুরি করতে পারে। কাজেই সন্দেহজনক কোন ই-মেইল বা ওয়েবসাইট খোলা অথবা ভিজিট করা থেকে বিরত থাকা উচিত। নইলে আপনার ই-মেইল আইডি বা পাসওয়ার্ড বেহাত হওয়ার সম্ভবনা থাকে এবং এতে করে অফিসের অনেক গোপন ও স্পর্শকাতর তথ্য চুরি হতে পারে’।

রেঞ্জ ডিআইজি জানান, বর্তমানে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাজারে বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইনে এসব সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রয় করছে। এ পরিস্থিতিতে স্বনামধন্য কোন অনলাইন বাজার প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ওয়েবসাইট বা অন্যকোন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের নামে অথবা ভুয়া সোস্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট খুলে সুরক্ষা সামগ্রী, মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই ইত্যাদি বিক্রয়ের নামে অর্থ প্রতারণার চেষ্টা করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সর্তক ও সচেতন হতে হবে। টেলিফোনেও প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। মোবাইল নম্বরটি ক্লোনিং করার মাধ্যমে আপনার নিকট আত্মীয় স্বজনদের কাছে আপনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে কোন বিকাশ অ্যাকাউন্টে জরুরি টাকা পাঠাতে বলতে পারে বা আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর অথবা পাসওয়ার্ডটি নিশ্চিত করতে বলতে পারে। এভাবে আপনার অ্যাকাউন্টের টাকা চুরির চেষ্টা করতে পারে। করোনা টেস্টের জন্য স্বাস্থ্য সেবার নামে কোন ই-মেইল ভুয়া ওয়েবসাইটে লগইন এর মাধ্যমে আপনার ই-মেইল ঠিকানা এবং পাসওয়ার্ড চুরি করে অর্থ চুরির চেষ্টাও করতে পারে। এছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট হ্যাকিং হতে পারে।

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘যারা ইন্টারনেট ব্রাউজ করে অলস সময় কাটাচ্ছেন তাদের অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেকোন একটি সাইট বা একটি ই-মেইল আপনার কৌতূহলের কারণ হতে পারে অথবা আপনাকে প্রলুদ্ধ করতে পারে। ভুলেও এদের ফাদেঁ পা দিবেন না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে মিথ্যা বা গুজব ছড়ানো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব) ইত্যাদিতে যারা সময়ের একটি বড় অংশ ব্যয় করেন তাদেরকে গুজবের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নানা রকম গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে সমাজে ভীতি বা যে কোন ধরনের অস্থিরতা তৈরী করার দূরভিসন্ধিমূলক অপচেষ্টা হতে পারে। এ ধরণের যেকোন পোষ্ট শেয়ার করা বা লাইক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ এঠি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

তিনি আরো বলেন, ‘সব কথার মূল কথা হলো সন্দেহজনক কোন ই-মেইল খোলা থেকে বিরত থাকতে হবে। বহু সংখ্যা বিশিষ্ট শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা সচেতন হলে নিজেরা নিরাপদ থাকবো। এ বিষয়ে পরিবারের অন্য সদস্য এবং বন্ধু বান্ধবকেও সচেতন করবো।’

সূত্র : কালের কন্ঠ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-gsnnews