মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

নান্দাইলে লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত গরু, মাঠে নেই কেউ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩ মে, ২০২০
  • ৫ Time View

আলম ফরাজী : ময়মনসিংহের নান্দাইলের বিভিন্ন  গ্রামে গত এক মাস ধরে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ নামে (এলএসডি) এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গরু মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে শত শত। মাঠ পর্যায়ে নেই কোনো তদারকি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এর মধ্যে মারা গেছে প্রায় ২টি গরু। এ রোগের প্রতিষেধক ও সঠিক ওষুধ না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ও খামারীরা।

চিকিৎসকরা বলেছেন, এটা ভাইরাসজনিত একটা রোগ। মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গের মাধ্যমে গরুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারি ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৪২ জন স্টাফ রয়েছেন। অথচ গ্রামাঞ্চলে গরুর এই মহামারিতে তাদের কাউকে মাঠে পাওয়া যায়নি। মাসান্তে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েও তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মলয় কান্তি জানান, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৪২ হাজার গরু-বাছুর রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হচ্ছে গরু-বাছুর। তবে খামারি বা কৃষকরা বলছেন এ সংখ্যা হাজার হাজার। সম্প্রতি সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গরুর মালিক ও খামারিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,হঠাৎ তাদের গরুগুলি বসা থেকে দাঁড়িয়ে খাওয়া বন্ধ করে দেয়। গরু গুলো কাঁপতে শুরু করে। এ অবস্থায় তিনমিনিটের মধ্যে রসুলপুর গ্রামের মো, জালাল উদ্দিনের একটি গরু মারা যায়।
উপজেলার সিংরুইল কোনা ডাংগর গ্রামের কামাল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি বিদেশি জাতের গাভীসহ একটি বাছুর এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। গাভির আক্রান্ত স্থানে মশা-মাছি থেকে রক্ষা করতে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তার প্রতিবেশী পারভিন আক্তারের ২টি, শান্তা বেগমের ৩টি, সালামের ১টি, মোস্তুফা মিয়ার ৩টি, শহীদ মিয়ার ২টি ও মন্নাছের ২টিসহ আশপাশের অনেকের গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রাণী সম্পদ বিভাগের কেউ কোনো ধরনের খোঁজ খবর নিচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মশা-মাছি ও পোকার মাধ্যমে ছড়ায় এ রোগ। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ থেকে ১০৫ ডিগ্রি হয়ে যায়। গরু খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। শরীরে প্রচণ্ড জ্বর আসে। পাশপাশি গরুর শরীরে বসন্তের মতো গুটি গুটি চাকা দেখা দেয়। পরে সেখান থেকে পুঁজ জমে ফেটে গিয়ে মাংস খসে পড়ে। ফলে দুধ উৎপাদন কমে যায়।

উপজেলার নান্দাইল সদর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মো. হুমায়ুন জানান, তাঁর গ্রামের আজিজুল, রশিদ, নাসিম, সুরুজ, আনিসুল, আমিনুল, কাদির ও সামছুর প্রায় ২০টি গরু-বাছুর এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি তার আক্রান্ত গরুগুলো আলাদা জায়গায় রেখে চিকিৎসা করাচ্ছেন। টাকা খরচ করেও সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনি হতাশায় দিন পার করছেন। রাজগাতি ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের লিটনের ১টি, মাইনুলের ৩টি ও হলুদের ১টি ছাড়া আরও অনেকের গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ওই এলাকার একটি মাদরাসার শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বাবুল জানান, এলাকায় এই রোগ মহামারি আকার ধারণ করলেও কোনো কর্মকর্তা বা মাঠকর্মীদের দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বলেন, এই রোগে আরও অনেক উপজেলায় ছড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যাপারে স্ব স্ব উপজেলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া লকডাউন চলা অবস্থায় একটু অসুবিধা হচ্ছে। তারপরও জরুরি কাজে তো সকলের থাকার কথা। কেন নেই খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ নিয়ে প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের চিকিৎসক (ভিএস) ডা. উজ্জ্বল হোসাইনকে পাওয়া যায়নি। প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মলয় কান্তি মোদক জানান, সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে চিকিৎসক উজ্জ্বল হোসাইন হাসপাতালে আসেন না। অথচ এ ধরনের চিকিৎসা কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হয়।

সূত্র: কালের কন্ঠ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-gsnnews