সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

পবিত্র রমজানে প্রিয় ফল খেজুর

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১ মে, ২০২০
  • ৩ Time View

মাওলানা আবদুল কাদির : পুণ্য আর কল্যাণের মাস রমজান। অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য একটু ভিন্ন। এ মাসে আসমান থেকে বর্ষিত হয় রহমত, বরকত, নাজাতের বারিধারা। মুসলিম জাতির কাছে এ মাস প্রভুর পক্ষ থেকে অদ্বিতীয় এক কৃপা-দান। মুসলিম জাতি আগ্রহ আর ভালোবাসা নিয়ে রোজা রাখে। ভোর রাতে জেগে সাহরি গ্রহণ করে। মাগরিবের সময় হলে ইফতারি করে। রাতে তারাবির নামাজ পড়ে। এভাবেই কাটে পুণ্যময় এ মাস। সারাটি মাস জুড়েই রোজদাররা খেজুরের স্বাদ চেখে থাকে। খেজুর দ্বারা সেহেরি করেন; দুধভাতের সঙ্গে মিষ্টি যোগ করতে খেজুরের জুড়ি নেই। আবার খেজুর দ্বারাই ইফতারি গ্রহণ করেন।

আর খেজুর তো যেমন সুস্বাদু ও মজার খাবার তেমনই তা একটি সুন্নতি খাবার। বাস্তবেই খেজুর সর্বোত্তম খাদ্য। খেজুরবিহীন পরিবার যেন ক্ষুধার্ত পরিবার। খেজুর জাদু ও বিষ প্রতিরোধক। মদিনার খেজুর সবচেয়ে উত্তম খেজুর। বিশেষ করে সর্বোত্তম খেজুর হচ্ছে ‘আজওয়া খেজুর’। তা ছাড়া আমাদের প্রতিদিনের নিয়মিত খাবারের সঙ্গে সঙ্গে খেজুর খাওয়া যেমন একদিকে সুন্নত, অপরদিকে দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য ঘাটতির চাহিদা পরিপূরক। হাদিসে এসেছে হজরত সাদ ইবনে আবি ওক্কাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, বিষ ও জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি : ৫৩৫৬)। সুতরাং পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং হাদিসের নির্দেশনায় খেজুর মানুষের জন্য অনেক উপকারী। যাতে রয়েছে দুনিয়ার খাদ্য ঘাটতির উপকার এবং হাদিসের আমলে আখিরাতের কল্যাণ।

খেজুর ফলটি এমন এক নেয়ামত, যা খেতে ভালোবাসে না এমন মানুষ পাওয়া যায় না। এটা সুন্নতি ফল। অর্থাৎ এটা খাওয়া বিশেষ সুন্নত। পবিত্র মক্কা ও মদিনায় এই ফলের চাহিদা অনেক বেশি। আমাদের দেশের মানুষও খেজুর খেতে খুবই ভালোবাসে। তবে খেজুর কি শুধুমাত্রই স্বাদের জন্য জনপ্রিয়? খেজুর শুধু খেতে ভালো লাগে বলে খাওয়া হয় না। খেজুর যেহেতু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেয়েছেন এবং পছন্দ করেছেন তাই খেজুরের মধ্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর খেয়েছেন ও পছন্দ করেছেন। তবে তিনি গাছপাকা ও তাজা খেজুর অধিক পছন্দ করতেন। ‘আজওয়া খেজুর’ রাসুল (সা.)-এর বিশেষ পছন্দের খেজুর ছিল।

আজওয়ার উপকারিতা ও গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালবেলা সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ ও জাদু তার ক্ষতি করবে না।’ (বুখারি : হাদিস ৫৪৪৫)। তাই আসুন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ সুন্নত আমলের নিয়তে ও প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের আশায় গ্রহণ করি। রমজানে আমাদের যাদের সামর্থ্য আছে তারা অন্যদের অর্থাৎ অসচ্ছলদের সাহরি ও ইফতারির জন্য উপহার দিয়ে সওয়াবের অংশীদার করে ধন্য হতে পারি। আল্লাহতায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-gsnnews