নান্দাইলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ‘দেওনের কথা বস্তাভর্তি, দিছে মগ দিয়া ঢাইল্যা’

ক্রাইম রিপোর্ট ময়মনসিংহ

কালের কন্ঠ, আঞ্চলিক প্রতিনিধি: হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। তা না দিয়ে অসত উদ্দেশে স্থানীয় কিছু ডিলার বস্তা খুলে মগ দিয়ে ঢেলে দিচ্ছেন লুঙ্গি, শাড়ি অথবা গামছায়। এতে এক ধরনের হয়রানির মধ্যে পড়েছেন চাল নিতে আসা দরিদ্ররা।

আজ মঙ্গলবার এ ধরনের দৃশ্য দেখা যায় ময়মনসিংহের নান্দাইলের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে। চাল নিতে আসা আহেরা খাতুন (৫৫) বলেন, ‘হুনছিলাম ৩শ টেহা দিলেই ৩০ কেজির বস্তা দিয়া দিবো। অহন চাল নিতে আইয়া দেহি মগের ভিতর লইয়া শাড়ির আইঞ্চলো (আঁচল) মেলাইতে কয়, দেরি আইলে পরে আইতো কইয়া সরাইয়া দেয়। এইডা কিরহম কথা অইলো।’

আজ মঙ্গলবার সকালে মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের একটি বাজারের ডিলার দোকানে চাল নিতে এসে বেকায়দায় পড়ে এ কথা গুলি বলেন।

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মার্চ মাস থেকে নান্দাইল উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সদরের খাদ্যগুদাম থেকে চালের বস্তা সংগ্রহ করে নিয়ে যান ডিলাররা। বস্তার গায়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সিল, চালের পরিমাণ ৩০ কেজি ও ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ কথাটি লেখা রয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার বেশ কয়েকটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, খাদ্যবিভাগের বস্তা খুলে রেখে বালতি দিয়ে ওজন মেপে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। মাপার কৌশলে ক্রেতাদের দু-তিনকেজি চাল ওজনে কম দিয়ে ঠকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় চাল নিতে আসা বেশ কয়েকজন বয়স্ক ক্রেতার সাথে কথা হয়। ক্রেতারা সকলেই প্লাস্টিকের বস্তা সাথে করে নিয়ে এসেছেন আবার কেউবা খালি হাতে।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বস্তা বা অন্য কিছু না আনলে ডিলার চাল দেন না। কার্ডধারী এক ব্যক্তির কিশোরপুত্র জানায়, বস্তা ছাড়া চাল আনতে গিয়ে তার বাবা মঙ্গলবার ডিলারের ধমক খেয়েছেন। উপস্থিত সকল ক্রেতার হাতে প্লাস্টিকের বস্তা দেখা গেছে। ডিলারদের দোকানে কোনো তদারক কর্মকর্তা (টেগ অফিসার) পাওয়া যায়নি।

মুঠোফোন নম্বর যোগাড় করে ফোন করা হলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল হক নামে এক তদারক কর্মকর্তা বলেন, তিনি খালার বাড়িতে গেছেন। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে দেখে এসেছেন। খাদ্য বিভাগের বস্তুা খুলে রেখে চাল বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তদারক কর্মকর্তা ডিলারের পক্ষ হয়ে কথা বলতে থাকেন।

মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন পরিষদ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রি করা হচ্ছে। ডিলারের দোকানের নাম হোসনা এন্টারপ্রাইজ। চাল বিক্রি করছেন রুবেল হোসেন নামে এক যুবক। সেখানেও বস্তা খুলে মগ দিয়ে ঢেলে চাল দেওয়া আগত হত দরিদ্রদের।

এ সব খবর পেয়ে তড়িঘড়ি সরেজমিনে যান উপজেলা খাদ্যকর্মকর্তা শেখ আবু হাসান সারোয়ার। তিনি বেশ কয়েকটি স্থানে গিয়ে বস্তা খোলে চাল দেওয়ার সত্যতা পান। পরে তিনি জানান, ফের এ ঘটনা ঘটলে ডিলারশিপ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *