শ্রদ্ধা ভালোবাসায় বিদায় নিলেন কবি মুশাররাফ করিম

বিশেষ সংবাদ

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও বিরিসিরি উপ-জাতীয় কালচারাল একাডেমির সাবেক পরিচালক ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সাবেক মফস্বল সম্পাদক কবি মুশাররাফ করিম (৭৫) ১১ জানুয়ারি শনিবার রাত ১০টায় বার্ধক্যজনিত কারণে স্থানীয় সায়েম হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না ইলাইহি………রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, একমাত্র কন্যা দোলা, নাতী-নাতনী, জামাতা, এক ভাই,এক বোন, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদে ময়মনসিংহসহ সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে।


১২ জানুয়ারি রোববার বাদ যোহর ময়মনসিংহের চরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ শেষে ভাঁটিকাশর পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মরহুমের জানাযার নামাজে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ শরীক হন। তার আগে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কবির মরদেহ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ প্রাঙ্গনে রাখা হয়। সেখানে কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ কবির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

জানা যায়, ষাটের দশকের আইয়ূব বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা শিশু সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক কবি মুশাররাফ করিম ১৯৪৬ সালের ৯ জানুয়ারী জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ময়মনসিংহ নগরীর সেহড়া মুন্সিবাড়ি হলেও দাদার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়।

পেশাগত জীবনে তিনি দৈনিক দেশ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করে দৈনিক দিনকাল পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক হিসেবে র্দীঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৯ সালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পদক, ২০০২ সালে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পুরস্কার, ২০০৩ সালে বাংলা একাডেমির পুরস্কার, জিয়া স্মৃতি পদক, কালচক্র স্বাধীনতা পদক, পূরবী স্বাধীনতা পদক এবং ২০১৯ সালে ময়মনসিংহ রোটারী ক্লাব তাঁকে রোটারী পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সন্মাননা পেয়েছেন এই কবি। তিনি বিরিশিরি উপ-জাতীয় কালচারাল একাডেমির পরিচালক ছিলেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বাংলা একাডেমির স্থায়ী সদস্য ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ ২৬ টি, শিশু কিশোর উপন্যাস ১৫ টি ও ৩ টি উপন্যাস রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ওপর তাঁর একটি বই মুদ্রণের কাজ চলছে। বইটি ২১ ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে বইমেলায় প্রকাশের কথা ছিল। তিনি লেখালেখির পাশাপাশি জাপান, থাইল্যান্ড ও সিংগাপুর ভ্রমন করেন। তিনি অবিভক্ত পুর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরে বিভক্ত মেনন গ্রুপ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রিয় সহ-সভাপতি পদে দ্বায়িত্ব পালন করেন।

কবি মুশাররাফ করিমের মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন বহুরূপী নাট্য সংস্থার সচিব নাট্য ব্যক্তিত্ব শাহাদাত হোসেন খান হিলু,ময়মনসিংহ সংগীত বিদ্যালয়ের সভাপতি মিজানুর রহমান খান লিটন,কবি শামসুল ফয়েজ, কবি আশরাফ মীর, কবি ও নাট্যকার ফরিদ আহমদ দুলাল, কবি গাউসুর রহমান,শিল্পী শাহ সাইফুল আলম পান্নু,কবি মামুন হফুজ, মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার আরজু পারভেজ,সদস্য সারোয়ার জাহান, ময়মনসিংহ সংগীত বিদ্যালয়ের পরিচালক সাংবাদিক নজীব আশরাফ, কবি ইয়াজদানী কোরাইশী,মানবাধিকার সংগঠক এড.নজরুল ইসলাম চুন্নু, এড, শিব্বির আহমেদ লিটন,কবি ও ছড়াকার জয়ন্ত কুমার তালুকদার শিবু, কবি আমজাদ দোলন, ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সভাপতি আনোয়ারা সুলতানা ও সাধারন সম্পাদক কবি স্বাধীন চৌধূরী, কবি আকন্দ লতিফ, কবি ভাসানী বাশার, গল্পকার শাহিদা হোসেন রিনা, কথা সাহিত্যিক মাহমুদ বাবু, কবি আলী ইউসুফ, নাট্যকার আবুল মনসুর, কবির ন্সেহধন্য গ্রাফিটি’র শামীম আশরাফ,রেজাউল করিম আসলাম,কবি নাজমা বেগম, বাচিক শিল্পী রুবিনা আজাদ,কবি সালমা বেগ,কবি নিবেদিতা শেলী, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড.পীযূষ কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান খান,জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক অমিত রায়, ময়মনসিংহ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আইয়ুব আলী ও সাধারন সম্পাদক মতিউল আলম, সাংবাদিক আমান উল্লাহ আকন্দ জাহাঙ্গীর প্রমুখ।নান্দাইল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

# নজীব আশরাফ : ময়মনসিংহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *