আমরারে কেউ ঘর ভাড়াও দিতে চায় না

ময়মনসিংহ সারাদেশ

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : সমাজে আর দশ জন মানুষের মতোই মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা। সমাজে তারা হিজরা নামেই পরিচিত। তারা চান একটি সু-নির্দিষ্ট কর্মের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে সুস্থ ভাবে চলতে। কিন্তু সে সুযোগও তাদের হচ্ছেনা। তারা সমাজে বৈষম্য ও অবহেলার শিকার করে মানবেতর দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিয়েই চলছে তাদের জীবন সংসার।

কেন্দুয়া উপজেলার হিজড়া সংগঠনের সভাপতি সাগরিকা বলেন, আমরাও মানুষ, আমাদেরও জীবন আছে সংসার আছে। আমরা অন্য সব মানুষের মতই একটি পেশা নিয়ে কাজ করে মোটা ভাত মোটা কাপড় পড়ে বাঁচতে চাই। কিন্তু সে সুযোগ আমরা পাইনা। সবাই অবহেলা ও তাচ্ছিল্যে করে। আমরারে কেউ ঘর ভাড়া দিতে চায় না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কি অপরাধ করেছি আমরা? সমাজের মানুষ আমরারে নিয়া শুধু তামাশা করে। কিন্তু আমরা কি খাই, কই থাকি এ খোঁজ খবর কেউ নিতে চায় না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কথা বলার সময় সাগরিকা, রত্ম, পাতা, রুবিনা, বৈশাখী, নয়ন, আশা, নিশী, মালা, গোলাপী ও সুইটি তাদের আবেগপূর্ন কথাবার্তা তুলে ধরেন। হিজড়া সংগঠনের কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি সাগরিকা আরো বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আশ্বাস দিয়েছিলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

তিনি জানান, কেন্দুয়া উপজেলায় প্রায় ৭০ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ (হিজড়া) আছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ভাতা পায় মাত্র ৮ জন। রত্ন, পাতা, রুবিনা ও বৈশাখী জানান, সবচেয়ে কষ্ট লাগে, আমরারে নিয়া যখন মানুষ হাসাহাসি করে, টাট্টা ও তামাশা করে। আমরাও সুন্দর ভাবে সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করতে চাই।

সাগরিকা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদেরকে মঙ্গলবার তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়েছিলেন, তিনি আমাদের সার্বিক খোঁজ খবর নেয়ার জন্য, ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আমরা যাবতীয় সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। এ প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে আমাদেরকে বিনামূল্যে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদেরকে কয়েকটি শীত বস্ত্র (কম্বল) দেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান রুহুল ইসলাম বলেন, আমাদের সাধ্যমতো তাদের জীবন মান উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাদের কাছ থেকে তাদের জীবন সম্পর্কে অবগত হয়েছি। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে দেড়শ ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিনামূল্যে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হবে। আশা করছি এর মধ্যে তাদেরকেও দেয়ার চেষ্টা করব। সে লক্ষ্যে সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিজড়াদেরকে খাস জমি বন্দোবস্তের কয়েকটি আবেদন ফরম দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *