বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে মাইক্রো ও অটোরিক্সা স্ট্যান্ড

ময়মনসিংহ সারাদেশ

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া ( নেত্রকোণা ) প্রতিনিধি: কেন্দুয়া উপজেলা সদরে নারী শিক্ষার প্রসারে গড়ে ওঠা একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের সামনেই স্থাপন করা হয়েছে একটি মাইক্রো ও অটোরিক্সার স্ট্যান্ড। ফলে ছাত্রীরা নির্বিঘেœ বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে পারছে না। ইভটিজিংসহ প্রতিনিয়তই নানান অসুবিধা সৃষ্টি হলেও এই স্ট্যান্ড সরিয়ে নেয়া হচ্ছে না বিদ্যালয়ের সামনে থেকে।

এতে করে ছাত্রীরা সামাজিক ও মানসিক ভাবে উদ্দীপনা হারাচ্ছে। উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মাইক্রো ও অটোরিক্সা স্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নিতে বার বার দাবি তুলে আসলেও প্রশাসন নির্বিকার। এর ফলে ছাত্রী অভিভাবকসহ সুধীমহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯৮৩ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমাজে মাথা উচু করে দাড়াবার চেষ্টায় অবিচল। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিবছই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে। ২০১৯ সালের পরীক্ষায় ১৫ জন ছাত্রী গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। কিন্তু বিদ্যালয়টিতে রয়েছে নানা রকম অসুবিধা। প্রায় দেড় হাজার ছাত্রী থাকলেও শিক্ষার্থীদের তুলনায় একাডেমীক ভবনের রয়েছে সংকট। যে কারণে অনেক সময় দাড়িয়েই ক্লাস করতে হয় ছাত্রীদেরকে। তাছাড়া সেকশন না থাকায় একসঙ্গে সব ছাত্রীদের ক্লাস নেয়া খুবই কঠিন হয়ে দেখা দিচ্ছে। মেয়েদের নেই কমন রুম ও খেলাধূলার সরঞ্জামাদি। বিশেষ সময়ে ব্যবহারের জন্য নেই কোন উপযুক্ত সৌচাগার। সবকিছু মিলিয়ে খুবই অসুবিধার মধ্যে প্রতিরোধের পাহাড় ডিঙ্গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে বিদ্যালয়টিকে ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মুখলেছুর রহমান বাঙ্গালী বলেন, শিক্ষার্থীদের তুলনায় একাডেমীক ভবনের সংকট তো আছেই, তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অনুবিধা হচ্ছে বিদ্যালয়টির সামেনেই অটোরিক্সা ও মাইক্রোস্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ড থাকার ফলে ছাত্রীরা অনেক অটোরিক্সার যাত্রী ও চালকদের নানান অঙ্গভঙ্গীর মাধ্যমে ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় চালক ও যাত্রীরা মোবাইল ফোনে কৌশলে ছাত্রীদের ছবিও তুলে নিচ্ছে। নিরাপত্তাসহ নানা অসুবিধার কারণে অটো ও মাইক্রোস্ট্যান্ডটি সরিয়ে নেয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *