প্রাথমিক শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনের মিশন মুজিব বর্ষের ভিশন: মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী

শিক্ষা সম্পাদকীয়

মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী: প্রাথমিক শিক্ষাই একটি শিশুর শিক্ষার মূল ভিত রচনা করে। এই শিক্ষাই হচ্ছে শিশুর মৌলিক শিক্ষা। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা সমাপ্ত করে একটি শিশু তার দৈনন্দিন জীবনের কাজ গুলো সূচারো রূপে সপন্ন করতে পারবে বলেই আশা করা হয়। শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায়। প্রতিটি শিশুই আলাদা আলাদা প্রতিভা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। এই শিশুদের সম্ভাবনাময় প্রতিভার সন্ধান করে তাদের ভবিষ্যত স্বপ্ন দর্শনে উদ্ভুদ্ধ করা যাতে তারা নিজ প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। নৈতিক ও আদর্শ জীবন গড়তে সক্ষম হয়। দেশপ্রেম ও মানব সেবায় আত্মনিয়োগ করার দীক্ষায় দীক্ষিত হয় প্রাথমিক পর্যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে সকল শিশু ভর্তি নিশ্চত হলেও বিরূপ পরিস্থিতির কারণে অনেক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করতে পারে না। অভিভাবকহী ও অসচেতন অভিভাবকগণের সন্তানের এ পরিস্থিতির শিকার হয়। এসকল শিশুর বাবা মায়েরা আহার যোগাতে কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে যান। ফলে শিশুরা দাদি,নানি ও অন্যন্যা নিকট আত্মীয়দের কাছে থেকে মায়ের সঠিক যতœটুকু পায় না। অনেক বাবা-মা দিন রাত শুধু কাজ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাদের সন্তানেরা যতেœর বিষয়ে খেয়াল রাখতে পারে না। অনেকেই আবার সামান্য আয় রোজগারের আশায় শিশুশ্রম অমান্য করে সন্তানকে কাজে লাগিয়ে দেন। ফলে শিশুরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসতে পারে না। শিশুদের সুষম খাবার ও বেড়ে ওঠা নিয়ে বাবা-মা ও অভিভাবকদের জ্ঞানের অনেক অভাব রয়েছে। পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তারা লেখা পড়ায় মনোযোগী হতে পারে না। অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে এসকল শিশুরা বিষয় ও শ্রেণী ভিত্তিক যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না। শিশুদের সুষম খাবার ও বেড়ে ওঠা নিয়েও বাবা-মা এবং অভিভাবকদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। অনেক সময় বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিশুদের সঠিক বিকাশের ক্ষেত্রেও অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। নিরানন্দ ও প্রতিকূল পরিবেশেও শিশুরা শিখতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে না। তাই বিদ্যালয়কে শিশুদের উপযোগী করে প্রস্তুত করতে হবে। ফুল ও ফলের বাগান তৈরি করে শিশু বান্দব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। দিতে হবে পর্যাপ্ত খেলা ধুলার সুযোগ। নিয়মিত সহপাঠ্য ক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ পাঠদানও শিশুর সঠিক বিকাশের অন্তরায়। অনেক শিক্ষকের পর্যাপ্ত বিষয়ে জ্ঞান না থাকায় সঠিকভাবে পাঠদান করতে পারেন না। কিছু শিক্ষককে বিশেষ করে জাতীয় করণকৃত পুল প্যানেল থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়েও তাদের মান উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ত্রুটিপূর্ণ পাঠদান করাচ্ছেন। প্রতিটি শিশুই নিষ্পাপ হয়ে জন্ম গ্রহণ করে। তার আগমনে অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। যে শিশুটি মায়ের কোল আলোকিত করল, সবার মনে আনন্দের শিহরন জাগাল সেই শিশুটিই একদিন অনাদর, অবহেলা ও অযতেœর কারণে অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়। শিশু জন্মের পর ঝঞ্জালহীন বসবাস উপযোগী পরিবেশ পেলে নিবিঘেœ একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে। শিশুর জন্য পৃথিবীকে বাসউপযোগী করে গড়ে তুলতে সমাজের সকল সচেতন নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুরা যে সকল সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে সেগুলোর পরিপূর্ণ বিকাশে সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। অসচেতন বাবা মাকে তাদের শিশুদের সর্বোচ্চ যতœ নেয়ার ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে। সচেতন মা বাবাগন তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত তৈরী নিয়ে যেভাবে চক তৈরী করেন তেমনিভাবে অসচেতন মা বাবার সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যত গঠনে সহায়তা দিতে হবে। শিক্ষকগণ সুষ্ঠু জরিপের মাধ্যমে বিদ্যালয় গমন উপযোগী প্রতিটি শিশুর ভর্তি বিষয়ে বাবা মাকে সচেতন করে ভর্তি নিশ্চিত করবেন, তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহায়তা দেবেন এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দর্শনে উদ্ভুদ্ধ করবেন। আর এ কাজ তখনই সম্ভব হবে যখন প্রতিটি শিশুর মাঝেই আমরা নিজের সন্তানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পারব। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় বিদ্যালয় গমন উপযোগী সকল শিশুর ভর্তি ও বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করে তাদের লিখন পঠন ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে তরান্বিত করতে হবে।

লেখক
সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা
নেত্রকোনা জেলার শ্রেষ্ঠ- ২০১৯
কেন্দুয়া, নেত্রকোনা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *