কেন্দুয়ায় গত বছরের আলোচিত প্রশ্ন ফাঁস মামলায় ফেঁসে গেলেন ১৪ শিক্ষক

ক্রাইম রিপোর্ট শিক্ষা সারাদেশ

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ঃ কেন্দুয়া উপজেলায় ২০১৯ সালের আলোচিত প্রশ্ন ফাঁস মামলায় ফেঁসে গেলেন ১৪ শিক্ষক। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের চাঞ্চল্যকর মামলায় ফেঁেস গেলেন ১৪ শিক্ষক শিক্ষিকা। একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শিল্পপতি মনিরুজ্জামান ভূঞা শামিম সহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়।
গত ২৮ জুন সকাল ১১ টা থেকে নেত্রকোনা জেলা সদরের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষার প্রশ্ন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে সংগ্রহ করে কতিপয় পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফোনে উত্তর সরবরাহ করছিলেন, প্রশ্ন ফাঁস ঘটনার মূলহোতা বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ছোটন, তার স্ত্রী নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বিবি হাওয়া আক্তার, পোড়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাকি, কেন্দুয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার, বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মরিয়ম আক্তার, পানঁগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুহিন আক্তার, দিগদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুজিবুর রহমান, মদন উপজেলার বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাবিলা চৌধুরী রিপা, নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুজ্জামান মিন্টু, সহকারী শিক্ষক আজহারুল ইসলাম, নেত্রকোনা উন্মেষ হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম রিপন, কৃষ্ণগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্ষিতিশ চন্দ্র ঝন্টু ও নেত্রকোনা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আব্দুল মোমেন খান সহ আন্তঃ জেলার একটি শক্তিশালী চক্র।
কেন্দুয়া পৌর শহরের টেঙ্গুরী ছয়আনি মহল্লার শিল্পপতি মনিরুজ্জামান ভূঞা শামিমের বসত বাড়ীর দোতালা ঘরে বসে প্রশ্ন ফাঁস চক্রটি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে কতিপয় পরীক্ষার্থীদের মাঝে উত্তর সরবরাহ করছিল। গোপন সূত্রে খবর পায় পুলিশ। পরে কেন্দুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান ও কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই বাড়িটি ঘেরাও করে। দীর্ঘ দুই ঘন্টা সময় তল্লাশী ও অভিযান চালিয়ে ওই ঘর থেকে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ১২ জন নারী সহ ৩৪ জনকে আটক করে। এসময় পুলিশ শামিমের বাড়ির দোতালা ঘর থেকে কয়েকটি ল্যাপটপ, এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি জব্দ করে।
এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানা পুলিশের এস.আই আবুল বাশার বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ ও পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইনে এজাহারে ৩৭ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ শিক্ষককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমানীত হওয়ায় এজাহার নামীয় ৩৭ ও তদন্তে প্রাপ্ত ১ জন সহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *