নান্দাইলে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব প্রতিহত করতে বিভিন্ন হাটবাজারে অভিযান ॥ ভ্রাম্যমান আদালতে ৩ জনকে জরিমানা

ক্রাইম রিপোর্ট প্রশাসন ময়মনসিংহ

শাহজাহান ফকির: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় মঙ্গলবার লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব প্রতিহত করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করেন। নান্দাইল উপজেলা সদর বাজার, নান্দাইল চৌরাস্তা বাজার, বাশঁহাটি বাজার, নান্দাইল রোড বাজার, ঝালুয়া, কানারামপুর বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেয়াঁজের পাশাপাশি লবণের কৃত্রিম ক্রাইসিস সৃষ্টি করে পুনরায় বাজারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে গোপনে লবণ মজুদ সহ স্বাভাবিক বাজার মূল্যের চেয়ে চওড়া দামে লবণ বিক্রির পায়তারা করছে। আবার ইতিমধ্যে বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করছে। উক্ত অভিযানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভিন্ন হাটবাজারে হ্যান্ড মাইকিং করে জনসাধারন সহ ব্যবসায়ীদেরকে লবণের দামের বিষয়ে সর্তক করেন এবং এ ধরনের মিথ্যা গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে নান্দাইল সদর বাজারের সিরাজুল স্টোরকে ৫ হাজার টাকা, নান্দাইল চৌরাস্তা বাজারের রিপন স্টোরকে ৫ হাজার টাকা এবং বাশঁহাটি রবিন স্টোরের মালিক মোসলেম উদ্দিনকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে নান্দাইল চৌরাস্তা বাজারের ব্যাবসায়ী খুররম শেখের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রীর অভিযোগ পাওয়া গেলেও তার দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। এসময় নান্দাইল উপজেলার অফিসার ইনচার্জ মনসুর আহম্মেদ সহ সঙ্গীয় ফোর্স সঙ্গে ছিলেন। এর পূর্বে দুপুরে নান্দাইল সদরে প্রমা ডিস্ট্রিবিউটর, প্রমা স্টোর, কলি স্টোর, আকিব ট্রেডার্স সহ বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়ে লবণের কোনধরনের ক্রাইসি দেখতে পাননি। বরং নান্দাইলে ট্রাক ভর্তি লবণের বস্তা আমদানী সহ বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা দোকানে যথেষ্ট পরিমাণ লবণের বস্তা মজুদ পাওয়া গেছে। জানাযায়, ৬০/৬৫ কেজি খোলা লবণের প্রতি বস্তা ৬০০ টাকা থেকে ৬৫০টাকায় পাইকারী বিক্রয় করা হবে। যেখানে খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি ১২-১৩ টাকা বিক্রি ও প্যাকেট জাত লবণের নির্ধারিত এমআরপি মুল্য বিক্রয় করতে পারবেন বলে ব্যবাসীয়দের নির্দেশনা প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন জানান, লবণের দাম বাড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে গুজব। নান্দাইলের বাজারগুলোতে লবণের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও যোগান রয়েছে। বাজারমূল্যও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরী করে অধিক মূল্যে লবণ বিক্রয় করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।কোন অসাধু ব্যবসায়ীগণ যাতে কোন ধরনের সিন্ডিকেট করে কাচামাঁলকে বাজার মূল্যের চেয়ে বেশী ধর বিক্রি করে বাজারের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।

61total visits,2visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *