নান্দাইলে কো-এডুকেশন স্কুলের প্রথম মহিলা টিচার

শিক্ষা

১৯৮৫ সাল। আমাদের বিয়ের এক বছর। থাকি ধনারামা গ্রামে। বিকেলে নান্দাইল রোড বাজারে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিই। একদিন নান্দাইল রোড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টি,আই,এম আজিজুল হক (প্রেস ক্লাব সম্পাদক এনামুল হক বাবুলের পিতা) আমাকে পেয়ে বললেন, বৌমাকে আমাদের স্কুলে দিবেন? একজন মহিলা টিচার খু্ঁজছি, পাচ্ছি না।পর পর দুটো বিজ্ঞাপন দিয়েছি। বললাম,বাড়িতে কথা বলতে হবে স্যার। এরপর বেশ কদিন চলে গেল।

একদিন বিকেল বেলা হাঁটতে হাঁটতে উনি আমাদের বহির্বাটী থেকে আমার নাম ধরে ডাকতে লাগলেন। বেড়িয়ে দেখি হেড স্যার। বললেন, আমার কথাটা ভেবে দেখেছেন। উত্তরে জানালাম বিজ্ঞাপন দিন। অতপর আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলে চা খেয়ে চলে যান।
এভাবেই শুরু। দৈনিক জাহানে ‘ বিজ্ঞাপন বেরোল। সম্ভবত ২৬ কি ২৭ জুলাই দরখাস্ত সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ইউ,এন,ও অফিসে সাক্ষাতকারের জন্যে হাজির থাকতে হবে। মনে আছে ভারপ্রাপ্ত ইউ,এন,ও ছিলেন তখন ম্যাজিস্ট্রেট জুলফিকার হায়দার। বোর্ডে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে একজনমাত্র মহিলা এবং দুজন সমান সংখ্যক নাম্বার পাওয়ায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরিটা আমার স্ত্রীরই হয়ে যায়।
প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন তখন জাতীয় পার্টির খুররম খান চৌধুরী। আমার সাথে সাংবাদিকতার সুবাদে ভালই জানাশোনা। বলেছিলেন, তোমার বউ এর চাকরি হলে আমার এখানে চা খেয়ে যয়ো। মনে আছে উনার ওখানে গেলে আমার স্ত্রীকে বলছিলেন নান্দাইলের কোন কো-এডুকেশন স্কুলে তুমিই প্রথম নারি শিক্ষক। চাকরিটা করো কিন্তু! খুররম ভাইয়ের কথাটা আজও মনে পড়ে।

এমনিভাবে একজন নিরু নাজমুন নাহার (নিরুপমা নিরু) এর শিক্ষকতা জীবনের তিন যুগ অতিবাহিত। আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০’/ বেঁচে থাকলে তার শেষ কর্মদিবস হবে। অগুনিত ছাত্র ছাত্রী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া প্রার্থী সে।

সূত্র: আবু তাহের সাগর (ফেসবুক)

65total visits,1visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *