কেন্দুয়ায় এক কলেজ ছাত্রীর ধর্ষণ মামলা নিয়ে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ: তদন্তে মাঠে নেমেছেন এস.পি

ময়মনসিংহ সারাদেশ

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :  নেত্রকোণা কেন্দুয়া থানায় এক কলেজ ছাত্রী তার শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলা নিয়ে এলাকায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পারিপার্শ্বিকতা যাচাইয়ে তদন্তে নেমেছেন নেত্রকোণার এস.পি আকবর আলী মুনসি। বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের বেখৈরহাটি বাজারের পার্শে অবস্থিত সৃষ্টি মডেল কোচিং সেন্টারে কথিত ধর্ষণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এসময় তিনি কোচিং সেন্টারের পাশের বাড়ির এক নারীর উপস্থিতিতে মামলার বাদী ধর্ষিতা ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদও করেন। এছাড়া এস.পি ওই কোচিং সেন্টারে পড়ুয়া কয়েকজন ছাত্র ও আশেপাশের লোকজন ও শিক্ষকদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় কেন্দুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, শিক্ষানবীশ পুলিশ সুপার কিশোর রায়, ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে দিনের পর দিন শারীরিক মেলা মেশা করেন দলাপা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বি.এস.সি শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামল। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলার তাঁতিপাড়া গ্রামে। রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি সৃষ্টি মডেল কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন শ্যামল। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর সকালে সৃষ্টি মডেল কোচিং সেন্টারে ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে সেখানেই শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন শিক্ষক শ্যামল। কিন্তু এতে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ছাত্র অভিভাকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মামলা দায়েরের আগেই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি জরুরি সভা ডেকে ২৩ অক্টোবর শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামলকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দেয়। এদিকে ২৪ অক্টোবর ছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামল, তার স্ত্রী ও বোনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরদিন থেকেই বেখৈরহাটি বাজারের নির্মাণ কোচিং সেন্টারের পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও মানবাধিকার কমিশন আইন সহায়তা কেন্দ্র দলপা ইউনিয়ন শাখার ব্যানারে শিক্ষক শ্যামলকে গ্রেফতারের দাবিতে মিছিল সমাবেশ করতে থাকে।

এ প্রসঙ্গে রঘুনাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সভাপতি মতিউর রহমান বৃহস্পতিবার বলেন, ওই মামলার ঘটনাটি এখন মনে হচ্ছে সাজানো। কোচিং সেন্টারের বানিজ্য নিয়ে একটি বিশেষ মহল শিক্ষক শ্যামলকে এখান থেকে বিতারিত করতেই তার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করিয়েছে। তবে কেন ওই শিক্ষককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হল, এ প্রশ্নের জবাবে মতিউর রহমান বলেন, এলাকার চাপ সামলাতে প্রথমেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এখন ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানতে চাইলে মানবাধিকার কমিশন ও আইন সহায়তা কেন্দ্র দলপা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আবু সায়েম তালুকদার বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ধর্ষণের ঘটনা সত্য জেনেই শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামলকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছে। এখন অদৃশ্য কারণে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা নিজেরাই উল্টো অপ-প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, নির্যাতিত ওই কলেজ ছাত্রী যাতে ন্যায় বিচার পায় সে দাবিতেই আমরা মানব বন্ধন করেছি।

তদন্তশেষে পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসি বলেন, এই ধর্ষণ মামলাটি নিয়ে এলাকায় পাল্টা-পাল্টি আলোচনা চলছে। এজন্য পরিষ্কার ধারণা নিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা যাচাই করতে নিজেই সরেজমিন তদন্তে এসেছি। কারো পক্ষে বা বিপক্ষে নই, আমরা সত্যের পক্ষে। নিখুঁত তদন্তে অবশ্যই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এ মামলায় যাতে কেউ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ের প্রতি আমরা সর্বোচ্চ সজাগ দৃষ্টি রাখছি। তদন্তাকলে মামলার বাদী কলেজ ছাত্রীর কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার দায়ের করা মামলার অভিযোগ সত্য। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামল তাকে ধর্ষণ করেছে। তিনি বলেন, শ্যামলের লোকজন আমাকে নানাভাবে হুমকিও দিচ্ছে। আমি শ্যামলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

63total visits,1visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *