রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫৯ অপরাহ্ন

বিদেশি বিনিয়োগে বাংলাদেশে ভিভোর পঞ্চম কারখানা হবে-চীন

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯
  • ৮৯ Time View

সংগৃহীত ছবি

জিএসএন ডেক্স: সরাসরি সম্পূর্ণ বিদেশি বিনিয়োগে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো মোবাইল অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট স্থাপন করতে যাচ্ছে চীনের স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী কোম্পানি ভিভো। এছাড়াও চীনা এই কোম্পানিটির পঞ্চম কারখানা হবে এটি। অনুকূল কর নীতির সদ্ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা নিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে।

ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থাপিত ভিভোর এই প্ল্যান্ট বছরে অন্তত ১০ লাখ স্মার্টফোন প্রস্তুত করতে সক্ষম হবে।

লিখিত এক বিবৃতিতে ভিভো মোবাইল কোম্পানি (বিডি) লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক তানজিব আহমেদ বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, আগামী মাস তিনেকের মধ্যেই ভিভোর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ হ্যান্ডসেটস বাজারে পাওয়া যাবে।

এছাড়াও তিনি আরও বলেন, সবসময় সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার নিশ্চয়তা দিয়ে আসছে ভিভো। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য সর্বোৎকৃষ্ট মান ও ন্যায্য মূল্যে পাওয়া যাবে।

অপরদিকে, উৎপাদন শুরুর বিষয়ে জানালেন তানজীব বলেন, চীনা এই কোম্পানিটির পঞ্চম কারখানা হবে এটি। এছাড়া নিজ দেশ চীনে দুটি এবং ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় একটি করে প্ল্যান্ট রয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ‘বাংলাদেশে নির্মিত’ পণ্য রফতানি করার কথা ভাবছে ভিভো।

ইতিমধ্যে কর প্রশাসক ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছ থেকেও সবুজ সংকেত পেয়েছে ভিভো। টেলিকম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার শেষ ধাপে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে বিটিআরসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কোম্পানিটিকে অনাপত্তি সনদ দেয়ার আগে কিছু পরীক্ষা শেষ করতে হবে।

বেস্ট টাইকুন (বিডি) এন্টারপ্রাইজ নামের অধীনে ভিভোকে প্রস্তুতকারী প্ল্যান্টটি চালাতে আড়াইশ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে হবে কোম্পানিতে। বিটিআরসির নীতিমালায় এমন শর্ত রয়েছে।

বাংলাদেশে ভিভোকে স্বাগত জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, হ্যান্ডসেটে আমদানি শুল্ক বাড়াতে ও অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে মোবাইল ফোন প্রস্তুতে ব্যবহৃত কাঁচা মালে শুল্ক কমিয়ে আনতে সরকারকে ব্যাপক প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে।

এছাড়াও মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, কেবল ভিভো-ই না, কর সুবিধা কাজে লাগিয়ে মোবাইল প্রস্তুত প্ল্যান্ট স্থাপনে আরেক চীনা কোম্পানি অপোও যোগাযোগ করেছে।

স্থানীয় মোবাইল অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টের জন্য সরকার প্রথম করনীতি প্রণয়ন করে ২০১৭-১৮ রাজস্ব বছরে। পরবর্তী সময়ে ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ সালের বাজেটে এই নীতিতে সংশোধন আনা হয়েছে।

বর্তমানে স্মার্টফোন আমদানিতে ৫৭ শতাংশ এবং বেসিক ও ফিচার ফোনের জন্য ৩২ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে উৎপাদিত ও প্রস্তুতকৃত ফোনের জন্য আলাদাভাবে ১৮ ও ১৩ শতাংশ কর ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশে সপ্তম অ্যাসেম্বলি ইউনিট হবে ভিভোর এই প্ল্যান্ট। এছাড়া আগে থেকেই ছয়টি হ্যান্ডসেটস প্রস্তুতকারী প্ল্যান্ট রয়েছে।

দেশে প্রথম মোবাইল ফোন অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট স্থাপন করে স্থানীয় ব্রান্ড ওয়ালটন। বছর দুই আগে ২০১৭ সালের অক্টোবরে প্রথম তারা মোবাইল প্রস্তুতে প্ল্যান্ট স্থাপন করে।

আর পরের বছর থেকে তাদের সব হ্যান্ডসেট স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত করছে। এছাড়া একটি স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে গাজীপুরে প্ল্যান্ট বসিয়েছে অপো। এই চীনা প্রতিষ্ঠানটি এখনো বিটিআরসির কাছে আবেদন করেনি।

টেলিকম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল প্রস্তুতে অপো একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করতে মৌখিকভাবে আমাদের জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারী অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিএমএ) সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, দেশের হ্যান্ডসেটের চাহিদার চল্লিশ শতাংশ আসছে ছয়টি মোবাইল অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট থেকে। ভিভোর পণ্য বাজারে আসতে শুরু করলে তা ৫৫ শতাংশে পৌঁছাবে। নরসিংদীতে এই কোম্পানির অ্যাসেম্বলি থেকে দেড় লাখের বেশি স্মার্টফোন উৎপাদন করা হচ্ছে।

বর্তমানে প্রতিমাসে বাংলাদেশে আট লাখ স্মার্টফোন বিক্রি হচ্ছে। যার মধ্যে সাড়ে তিন লাখের যোগান দিচ্ছে স্থানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিএমপিএমএ’র তথ্যানুসারে, এক লাখের বেশি স্মার্টফোন ও কয়েক হাজার ফিচার ফোন প্রস্তুত করছে সিম্ফনি।

এছাড়া চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার স্মার্টফোন প্রস্তুত করছে ওয়ালটন। ট্রানশান বাংলাদেশ লিমিটেড সত্তর থেকে আশি হাজার স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ছে। এছাড়াও আল-আমিন ব্রাদার্স ও আনিরা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডও বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ফোন প্রস্তুত করছে।

অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট স্থাপনে বিটিআরসির প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউটরস লিমিটেড ও ওকে মোবাইল লিমিটেড। এছাড়াও অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে আরও তিনটি কোম্পানি।

এছাড়াও আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএমপিএমএ সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব আরও বলেন, যখন এসব কোম্পানি স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন প্রস্তুত করতে শুরু করবে, তখন দেশের পুরো চাহিদা ন্যূনতম আমদানি ছাড়াই পূরণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া বিদেশেও রফতানির উদ্যোগ নেয়া যাবে।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love
  •  
  •  
  •  

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-gsnnews